বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় মোটরসাইকেলের জ্বালানি তেলের সংকটে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাপে পড়েছেন। ফলে উপজেলার মাঠপর্যায়ের সরকারি কার্যক্রমে ধীরগতি ঘনিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংকট অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কাজকর্মে আরও বড় সমস্যা দেখা দেবে।

উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম চালাতে ১০টি ইউনিয়নে নিয়মিত মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন কর্মকর্তারা। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ (এলজিইডি) এলাকার বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই সংকটের কথা জানিয়েছেন। এসব দপ্তরে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত মাঠে দায়িত্ব পালন করেন।

উপজেলা পরিষদে গিয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের মেকানিক হেদায়েতুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন ইউনিয়নে টিউবওয়েল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করি। এই কার্যক্রম করা নিয়ে আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মোটরসাইকেল। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মোটরসাইকেলে প্রতিদিন যেতে হয়। অন্তত এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে সময়মতো পেট্রল না পাওয়ার কারণে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সমস্যা অব্যাহত থাকলে আমাদের কার্যক্রম ব্যাহত হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসাবুদ্দৌলা বিপ্লব বলেন, ‘উপজেলার সীমাবাড়ি, ভবানীপুর ও বিশালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ আমি তদারক করি। ওই ইউনিয়নগুলোতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান। এ ছাড়া উন্নয়নমূলক নতুন কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে সড়ক পরিদর্শনের কাজও চলছে। এসব এলাকায় যাতায়াতে মোটরসাইকেলই প্রধান ভরসা। বর্তমানে জ্বালানি–সংকটের কারণে প্রতিদিন বাড়তি টাকা ব্যয় করে সিএনজি ভাড়া করে চলাচল করতে হচ্ছে। এই ব্যয়ের টাকা সম্পূর্ণ আমার বেতন থেকেই দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবারের ব্যয় মেটানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিযায় কাযমীর রহমান বলেন, ‘উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গবাদিপশুর খামার রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে কৃষকের বাড়িতে গরু-ছাগল রয়েছে। আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০ জন স্বেচ্ছাসেবী গ্রামে গিয়ে পশুর চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। কিন্তু জ্বালানি–সংকটের কারণে তাঁরা মোটরসাইকেলে যেতে পারছেন না। বিকল্প হিসেবে অটোরিকশা বা সিএনজিতে যেতে হচ্ছে, এতে তাঁদের বাড়তি খরচ হচ্ছে।’ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী রিপা পারভিন বলেন, ‘বিভিন্ন ইউনিয়নের টিউবওয়েলে সমস্যা হলে আমাদের প্রায়ই প্রত্যন্ত গ্রামে যেতে হয়। কিন্তু সময়মতো মোটরসাইকেলের তেল না পাওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, ‘আমাদের কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পরিচালিত হয়। কৃষকের সমস্যা সমাধানে প্রায় প্রতিদিনই মাঠে যেতে হয়। আমাদের এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের একমাত্র বাহন মোটরসাইকেল। কিন্তু জ্বালানি–সংকটে গাড়িগুলো চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান বলেন, ‘অন্তত ২০ দিন আগেও আমাদের ইউনিয়নে কৃষি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ও এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়মিত দেখা যেত। এখন তাঁদের ঠিকমতো দেখা যায় না।’

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) আবদুল মজিদ বলেন, ‘মোটরসাইকেলে জ্বালানি না পাওয়ায় আমাদের সিএনজি ভাড়া করে চলতে হচ্ছে। এতে ব্যক্তিগতভাবে বেতন থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সরকারি দপ্তরের কাজের গতি স্বাভাবিক রাখতে জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’