ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় পুরোনো দ্বন্দ্বের জেরে রাতের আঁধারে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুড়াহাটি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

এ সংঘর্ষে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৬৩ জনের নামে থানায় মামলা করার পর আজ বৃহস্পতিবার সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশ ও মৃধা বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে শেখ শামসুদ্দিন (৬০) নিহত হন। এ ঘটনায় শামসুদ্দিনের ছেলে শেখ আবুল হাশেম বাদী হয়ে ৩১ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। আসামিপক্ষের লোকজন কয়েক বছর ধরে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য বাদীপক্ষকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। তাঁরা বাদীপক্ষের লোকজনকে রাস্তাঘাটে চলাচলে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়।

ঈদের পরদিন আসামিপক্ষের এক যুবক বাদীপক্ষের বসতবাড়ির পাশ দিয়ে মুড়াহাটি গ্রামে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। তখন বাদীপক্ষের লোকজন বাধা দেন। এর জেরে মুড়াহাটির লোকজন বাদীপক্ষের লোকজনকে রাস্তাঘাটে চলাচলে বাধা দিতে শুরু করেন। এর ফলে গতকাল রাতে মুড়াহাটি ও বুড্ডা গ্রামের শেখ বংশের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শাহবাজপুর–বুড্ডা সড়কে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে মুড়াহাটি গ্রামের পক্ষ নেন শাহবাজপুর ইউনিয়নের বন্দেরহাটির লোকজন। মুড়াহাটি গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আরিজ মিয়া। অন্যদিকে বুড্ডা গ্রামের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ শামসুদ্দিনের ছেলে শেখ রাকিব উদ্দিন।

সংঘর্ষে সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া, পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার, উপপরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমেদ, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইউনুছ গাজী, এএসআই সুলতান হোসাইন, এএসআই আরিফিন জাহান, সদস্য আমির হোসেন, মাসুদ রানা, শাহীনুল ইসলাম, আজিজুল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এ ঘটনায় এসআই সুজন চন্দ্র মজুমদার বাদী হয়ে ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১২০ জনকে। তার আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে আজ বেলা ১১টার দিকে মুড়াহাটি গ্রামের রুস্তম মিয়া (৩৮) নামের এক ব্যক্তি থানায় আটক ব্যক্তিদের দেখতে যান। তখন রুস্তম মিয়াকেও আটক করা হয়। তাঁরা মুড়াহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আগের একটি খুনের ঘটনার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এখন এলাকার অবস্থা শান্ত। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।