জ্বালানি তেল না পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেল চালক ও মালিকরা পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ভুল্লী এলাকার একটি ও রাতে শহরের আরেকটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া গতকাল রাতে রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনের কাছে পটকা বিস্ফোরণ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল নয়টা থেকে ভুল্লী এলাকার ‘তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনে’ জ্বালানি তেল দেওয়া শুরু হয়। তেলের জন্য ভোর থেকে শত শত মোটরসাইকেল অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ডিপো থেকে তেল পৌঁছাতে বিকেল পাঁচটা বেজে যায়। তেল আসার পরও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের নীতিমালা অনুসরণ করে সন্ধ্যা ছয়টার পর তেল বিক্রি করতে অস্বীকার করে। এতে মোটরসাইকেলের মালিক ও চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। ফলে মহাসড়কের দুপাশে যানবাহন আটকে যায়। দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

তিয়াস তিমু ফিলিং স্টেশনের মালিক রওশনুল হক বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেল বিক্রির সময় নির্ধারিত। সেই নির্দেশনা মেনেই তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলেন তাঁরা।

ভুল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা মেনেই তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছিলেন। এটা মোটরসাইকেল চালকেরা মেনে নিতে পারেননি। তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়।

এদিকে গতকাল রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে বিক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে। তারা বাঁশ ফেলে যান চলাচলে বাধা দেয়। একসময় মোটর শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন বলেন, ‘ডিসপেন্সিং মেশিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি তেল বিতরণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে তেল বিতরণ স্বাভাবিক হয়। এ সময়ের মধ্যে মোটরসাইকেল চালকেরা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন।’

অন্যদিকে রানীশংকৈলের নেকমরদ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে গতকাল রাতে ককটেলসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কেউ আহত না হলেও ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।

ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল আমরা ২ হাজার লিটার পেট্রল পাই। লরি আসার পর তা আনলোড করে রাতে তেল বিতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন মোটরসাইকেলের একটি বহর পাম্পের ভেতর ঢুকে পড়ে। তাদের সরে যেতে বললে তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ফিলিং স্টেশনের পেছনে একটি বিকট শব্দ হয়। তখন লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করেন। পরে পুলিশ এসে সেখানে অবস্থান নেয়।’

ঠাকুরগাঁওর পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। গতকাল জ্বালানি তেলের জেরে দুটি ফিলিং স্টেশনের সামনের মহাসড়কে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধরা। পরে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। আর রানীশংকৈলের নেকমরদ এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে পটকা বিস্ফোরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনার পেছনে কারও উসকানি আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’