রাজধানীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে দুই বছরের ছেলে হোসাইনকে নিয়ে সাতদিন ধরে আছেন তার মা আফিয়া বেগম। হোসাইন অতি ছোঁয়াচে হামে আক্রান্ত হয়ে হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে হাসপাতালে আফিয়া বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি মহাখালীর কড়াইল বস্তি থেকে ছেলের চিকিৎসার জন্য এসেছেন। আফিয়া বেগম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে সাত দিন ধরে ভর্তি আছি। আমার বাচ্চার কাশি এখনো কমছে না, ডাক্তার থাকতে বলেছেন। তাই আছি।’
হোসাইনের অসুস্থতা শুরু হয় জ্বর, সর্দি ও কাশি দিয়ে। পরে শরীরে র্যাশ দেখা দলে মা আফিয়া ছেলেকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নেন। সেখানকার পরামর্শে তারা এই হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৩৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে ২৪০ জন ভর্তি রয়েছে—সাধারণ ওয়ার্ডে ১৮৭ জন এবং আইসিইউ-তে ৫৩ জন। তারা হাম ও এই ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৫ জন নতুন রোগী এসেছে, যার মধ্যে ৫৮ জন হামে আক্রান্ত। নতুন আক্রান্তদের বেশির ভাগ শিশু, তবে প্রাপ্তবয়স্কও আছেন।
২২ বছর বয়সী শিউলি আক্তার হামে আক্রান্ত হয়ে চারদিন ধরে তৃতীয় তলায় চিকিৎসাধীন। তার মা নবিজুন নেছা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, শুরুতে জ্বর ও সর্দি–কাশি ছিল। এখন শুধু কাশি আছে, গ্যাস (নেবুলাইজার) দিতে হয়। ছোটবেলায় মেয়েকে সব ধরনের টিকা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোগীর চাপ বাড়ায় সোমবার থেকে হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালু হয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এবং বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগী পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে বেশির ভাগেরই বয়স কম।
২০ মাসের শিশু মাইশা তুন নূরের চিকিৎসায় লালবাগ থেকে এসেছেন তার বাবা মো. মিলন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মেয়ের হামের লক্ষণ আছে। শুরুতে জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। পরে কাশি বেড়ে যাওয়ায় মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে এখানে আনা হয়েছে। মাইশার পরীক্ষা–নিরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো রিপোর্ট পাননি বাবা মিলন।
ছয় বছরের নিহালকে নিয়ে তৃতীয় তলার হাম ওয়ার্ডে আছেন তার মা নাহার বেগম। গৃহকর্মী নাহারের আরেক সন্তান তিন বছরের সিয়াম ঈদের দিন সকালে হামে মারা যায়। কামরাঙ্গীরচর থেকে আসা নাহার বেগম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ছেলেদের নিয়ে আমার শ্বশুরবাড়ি টাঙ্গাইলে গিয়েছিলাম। সেখানে বড় ছেলের জ্বর আসে, পরে হাসপাতালে নিলে হাম শনাক্ত হয়। পরে ঢাকায় ফিরে কয়েকটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার ছেলের ভালো চিকিৎসা হয়নি। তাকে বাঁচাতে পারিনি।’ রোববার থেকে ছোট ছেলেকে ভর্তি রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ওর এখনো কাশি আছে, সে জন্য ডাক্তার থাকতে বলেছেন।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আসিফ আহমেদ হাওলাদার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এখানে রোগীর যথেষ্ট চাপ আছে, আমরা সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এখানে রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংকটাপন্ন রোগীদের প্রয়োজনীয় বিশেষ সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।’






