২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুন লাগে। আগুনে পুড়ে ৩ জন ও ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে ৪৩ জন মারা যান।
আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় তলায় ‘কাচ্চি ভাই’ নামের খাবারের দোকানের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল, খাবারের বিল পরিশোধ না করে কেউ বেরিয়ে যেন না পারে। আগুন ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন তলায় আটকা পড়া অনেকে ছাদের দিকে ছুটে যান। কিন্তু অবৈধভাবে ৮তলা ও ছাদ মিলে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ থাকায় সেখানেও আশ্রয় পাননি তারা।
অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলেও সেখানে খাবারের দোকানের গ্যাস সিলিন্ডারসহ নানা জিনিসপত্র রেখে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা ছিল। এসব অব্যবস্থাপনার কারণেই সেদিন ৪৬ জন প্রাণ হারান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. শাহজালাল মুন্সি গতকাল বুধবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনায় রমনা থানায় মামলা হয়। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। প্রায় দুই বছর তদন্ত করে গত মঙ্গলবার ভবনের মালিকপক্ষ আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রমজানুল হক নিহাদসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। অন্যরা হলেন আনোয়ারুল হক (২৯), মুন্সি হামিদুল আলম বিপুল (৪০), মো. সোহেল সিরাজ (৩৪), ইকবাল হোসেন কাউসার (৫০), জেইন উদ্দিন জিসান (২৯), মোহর আলী পলাশ (৫০), মো. ফরহাদ নাসিম আলীম (৫৫), আবদুল্লাহ আল মতিন (৩৫), মো. নজরুল ইসলাম খান (৫০), লতিফুর নেহাব (৬৫), খালেদ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ (৫৫), অঞ্জন কুমার সাহা (৫৫), মো. মুসফিকুর রহমান (৩১), জগলুল হাসান (৬৫), আশিকুর রহমান (৩৫), হোসাইন মোহাম্মদ তারেক (৪১), রাসেল আহম্মেদ (৩২), মো. সাদরিল আহম্মেদ শুভ (৩২), রাফি উজ-জাহেদ (৩৪), আদিব আলম (৩৯) ও শাহ ফয়সাল নাবিদ (৩৪)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মো. শাহজালাল মুন্সি গতকাল বুধবার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
পুরো ভবনে কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। ছাদ খোলা না রেখে অবৈধভাবে ৮ তলা ও ছাদ মিলে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ করা হয়েছিল। ছাদে ওঠার গেটও বন্ধ করে রাখা হতো। এসব অব্যবস্থাপনার কারণেই সেদিন এত মানুষ মারা যায়।
তদন্তে ভবনের নিচতলা থেকে ছাদ পর্যন্ত নানা ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা পাওয়া যায়। ভবনটির পাঁচতলা পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমতি ছিল। কিন্তু নিয়মবিরুদ্ধভাবে ৮তলা পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হতো। ভবনের ১০টি খাবারের দোকানের কোনোটিরই বৈধ কাগজপত্র ছিল না। দোকানগুলোর ভেতরে বোর্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, যাতে আগুন দ্রুত ছড়ায়। ছাদেও অবৈধ স্থাপনা ছিল। পুরো ভবনে কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। ছাদ খোলা না রেখে অবৈধভাবে ৮ তলা ও ছাদ মিলে ‘ডুপ্লেক্স রেস্টুরেন্ট’ করা হয়েছিল। ছাদে ওঠার গেটও বন্ধ করে রাখা হতো। এসব অব্যবস্থাপনার কারণেই সেদিন এত মানুষ মারা যায়।
সিআইডির তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দোকানের ব্যবস্থাপক জেইন উদ্দিন জিসানের নির্দেশে দোকানের ফটকে তালা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর খামখেয়ালিপনার জন্য অনেকে মারা গেছেন। সে জন্য তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আগুনের সূত্রপাত হয় নিচতলার ‘চুমুক’ নামের কফি শপে। বৈদ্যুতিক কেটলি থেকে আগুন শুরু হয়। ঘটনার দিন ‘লিপ ইয়ার’ উপলক্ষে ‘কাচ্চি ভাই’ দোকানে বিশেষ ছাড় ছিল, তাই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গ্রাহক উপস্থিত ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে দোকানের ব্যবস্থাপক জেইন উদ্দিন জিসান ফটকে তালা লাগানোর নির্দেশ দেন, যাতে বিল না পরিশোধ করে কেউ বেরোতে না পারে। এতে দোকানে আটকা পড়ে অনেকে শ্বাসরোধে মারা যান।
মো. ফয়সাল করিম গতকাল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, যাঁদের গাফিলতির কারণে এত মানুষ মারা গেছেন, তাঁদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।
ঘটনার দিন কেনাকাটায় ভবনে আটকা পড়েন কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. ফয়সাল করিম। আহত হয়ে প্রায় এক সপ্তাহ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নেন তিনি।






