বৃহস্পতিবার ভারতের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই বড় পতন ঘটেছে। প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত ক্ষতি হয়েছে ১০ লাখ কোটি রুপি।
এর মূল কারণ গতকাল জাতির উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ। এই ভাষণে যুদ্ধ বন্ধের সময়সীমা উল্লেখ না করায় বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে আজ তেলের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে এবং এর প্রভাব ভারতের শেয়ারবাজারেও পড়েছে। খবর এনডিটিভির।
লেনদেন শুরুতেই সেনসেক্স ১ হাজার ৪০০ পয়েন্টের বেশি নেমে যায়, নিফটি প্রায় ৪০০ পয়েন্ট কমে। গতকাল বুধবার উভয় সূচকই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু আজ সেই ইতিবাচকতা ধস নামিয়ে দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে প্রথম অধিবেশনে সেনসেক্স ও নিফটি ৫০ বড় ধাক্কা খায়। গত মঙ্গলবার বাজার বন্ধ ছিল। গতকাল বুধবার নিফটি ৫০ ৩৪৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সেনসেক্স ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ১ হাজার ১৮৬ পয়েন্ট বেড়েছিল। কিন্তু আজ সেই রেশ অদৃশ্য হয়ে যায় এবং দালাল স্ট্রিটের সূচকগুলো তীব্র পতনের মুখে পড়ে।
এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও একই ছবি। জাপানের নিক্কেই ২২৫ ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ২ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং স্মল ক্যাপ কোসড্যাক ৩ শতাংশের বেশি নেমেছে। হংকংয়ের বাজার নেতিবাচক এবং চীনের বাজারে পতন তুলনামূলকভাবে কম।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ধস। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৩৫২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার্স একই পরিমাণ পড়ে এবং নাসডাক ১০০ ফিউচার্স ১ শতাংশের বেশি নেমেছে।
গতকাল ট্রাম্পের ভাষণের পর বন্ডের সুদহার দ্রুত বেড়েছে। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদ ৪ দশমিক ৩৭ শতাংশে পৌঁছে এবং দুই বছর মেয়াদির সুদ ৪ ভিত্তি পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ হয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে তিন মাসের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হয়েছে বন্ডের সুদহারে।
ভারতের শেয়ারবাজারে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিক্রি অব্যাহত। এতে রুপির ওপর চাপ পড়ছে এবং বাজারের মনোভাব দুর্বল হচ্ছে। এনএসইর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল টানা ২২ দিন বিদেশিরা নিট বিক্রেতা ছিলেন এবং প্রায় ৮ হাজার ৩৩১ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদ বাড়ায় এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
ভারতের বাজার–বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের শাসন পরিবর্তন বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া—যুক্তরাষ্ট্রের নজর এখন এই দুটি বিষয় সরে এসেছে। তাঁদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমলে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের বিমা খরচ কমবে এবং জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হতে পারে।
বিশ্লেষকের মতে, স্বল্প মেয়াদে বাজারে অনিশ্চয়তা থাকবে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তি থাকবে। যুদ্ধ কবে শেষ হবে তা পরিষ্কার নয়। এখন পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নতি স্বীকার করেনি। তবে যেকোনো সময় যুদ্ধ বন্ধের সময়সীমা ঘোষিত হতে পারে। স্বল্প মেয়াদে বাজার অস্থির থাকবে—এমন সম্ভাবনাই বেশি। খবর ইকোনমিক টাইমসের।
জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ভি কে বিজয়কুমার বলেছেন, "ট্রাম্প যে বললেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে—এরপর বাজারের মনোভাব আবারও নেতিবাচক হয়ে উঠেছে।"






