বাজারে চিকন থেকে মোটা বিভিন্ন ধরনের চাল পাওয়া যায়। নিয়মিত খাবার হিসেবে কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী? এই বিষয়ে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট করেছেন রাফিয়া আলম।
চালের বাইরের স্তরে আমাদের প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে। চাল প্রক্রিয়াকরণের সময় এই বাইরের স্তর নষ্ট হয়ে যায়, ফলে সেইসব পুষ্টি উপাদানও হারিয়ে যায়।
এর মধ্যে ভিটামিন বি-এর গ্রুপ—থায়ামিন, নায়াসিন ও পাইরিডক্সিন—খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ এবং ফসফরাসের মতো খনিজ পদার্থও প্রক্রিয়াকরণে অনেকাংশে নষ্ট হয়। আঁশও হারিয়ে যায়।
সুতরাং চাল যতটা চিকন, তাতে এসব পুষ্টির পরিমাণ ততই কম। তাই মোটা চাল চিকন চালের চেয়ে পুষ্টিগুণে অনেক এগিয়ে।
মোটা চালে আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় অল্প ভাত খেলেও পেট ভরে যায় এবং তৃপ্তি লাগে। এর ভাত ধীরে হজম হয়, রক্তের শর্করা হঠাৎ বাড়ে না বরং ধীরে ধীরে বাড়ে। ফলে দেহ দীর্ঘক্ষণ শক্তি পায় এবং ক্ষুধাও দ্রুত লাগে না।
চিকন চালে আঁশ কম থাকায় ভাত দ্রুত হজম হয় এবং রক্তের শর্করা তাড়াতাড়ি বেড়ে যায়। শর্করা কোষে প্রবেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হলে দেহের বিভিন্ন অংশে মেদ জমার ঝুঁকি বাড়ে এবং ক্ষুধাও দ্রুত ফিরে আসে। এতে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়।
মোটা চালে আঁশের পরিমাণ যথেষ্ট থাকায় ক্যালরি, ওজন, রক্তের শর্করা এবং খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য এবং যাদের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বেশি, তাদের মোটা চালই উত্তম। সুস্থ ব্যক্তিরা স্বাস্থ্য রক্ষায়ও এটি বেছে নিতে পারেন।
তবে হজমের গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত বা খাবার চিবিয়ে গিলতে অসুবিধায় থাকলে চিকন চাল ভালো। সাময়িক হজমের সমস্যায়ও অল্পদিন চিকন চাল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।






