কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মঙ্গলবার হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশু ভর্তি হয়েছে। আগের দিন সোমবার আরও ১২ শিশু ভর্তি হয়েছিল। এখন হাসপাতালে ৩৭ শিশু চিকিৎসাধীন, তাদের বয়স ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের জানানো মতে, সাগরদ্বীপ মহেশখালী, কক্সবাজার পৌরসভা, সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা, রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো শিশুর মৃত্যু ঘটেনি।
জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৩টি সন্দেহজনক রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। পরীক্ষার জন্য পাঠানো নমুনার মধ্যে ২৮টির ফল পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রামুর মিঠাছড়ি এলাকা ও কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকায় উপসর্গের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. সলিম উল্লাহ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ৩৭টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন। এসব শিশুর বেশিরভাগের বাড়ি মহেশখালী, রামু ও নাইক্ষ্যংছড়িতে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মার্চ মাসের ৩০ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৮ শিশু। ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা ছিল ৯।
হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বলেন, আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এটি ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. শাহজাহান নাজির বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে একটি এলাকায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত শিশু সংক্রমিত হতে পারে। সাধারণত পাঁচ বছরের নিচের শিশু, বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সীরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ৯ মাস বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে। যেসব এলাকায় টিকার আওতা ৮৫ শতাংশের নিচে, সেখানে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসকরা জানান, জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি—এসব হামের সাধারণ উপসর্গ। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহও হতে পারে।
সংক্রমণ ঠেকাতে উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে আলাদা রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মাস্ক ব্যবহার এবং নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস জরুরি। ছিন্নমূল ও টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি থাকায় ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
দাতা সংস্থাগুলোর একটি সূত্র বলছে, এ বছরের ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। বাংলাদেশ হামমুক্ত দেশ নয়, তবে টিকা কর্মসূচির কারণে হামের প্রকোপ কমে এসেছিল। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, অনেক শিশু নিয়মিত টিকা পাচ্ছে না। পাশাপাশি দেশে বেশ কয়েক বছর হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিও হয় না। এ কারণে হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে হামে দেশে ৫০টির বেশি শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।






