মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ‘পরকীয়া’ অপবাদে মারধরের পর একজন ৫৭ বছর বয়সী ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার রাতে তাঁকে মারধর করা হয় এবং আজ মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, উপজেলার এক গ্রামে এক প্রবাসীর ছোট ভাই তার ভাবির স্ত্রীকে বিরক্ত করতেন। নারীটি দেবরকে এসব থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেন। মারধরপাওয়া ব্যক্তির সঙ্গে নারীর ভালো সম্পর্ক ছিল। এটাকে ‘পরকীয়া’ বলে অভিযুক্ত সোমবার রাতে তাঁকে ডেকে তার সহযোগীর সঙ্গে মারধর করেন। এতে নিহতের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে এবং একসময় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয় লোকেরা তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে।

নিহতের মৃত্যুর সংবাদ প্রচারিত হলে এলাকাবাসীরা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে তার সহযোগী পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

নিহতের বড় মেয়ে বলেন, ‘আমার বাবা একজন জেলে। মাছ ধরে সংসার চালান। রাতে বাবা মাছ ধরার জন্য বের হতেন। সোমবার বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে হত্যা করে ওই দুজন। যারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।’

প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, ‘আমার দেবর অনেক দিন ধরে আমাকে বিরক্ত করছে। আমার সম্মানহানি করতে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার জন্যই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। যাকে মারা হয়েছে তিনি একজন বয়স্ক মানুষ, আমার বাবার বয়সী। তিনি আমাদের বাড়ির আশপাশেও আসেননি।’

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লৌহজং থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরেকজনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে।