সমকালীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে ক্লাও ঝাওকে প্রভাবশালী নির্মাতা বলা যায়। স্বতন্ত্র গল্প বলার ধরন, বাস্তবধর্মী চরিত্র গঠন এবং নিঃশব্দ মানবিক আবেগ তুলে ধরার দক্ষতা তাঁকে হলিউডে স্বতন্ত্র স্থান দিয়েছে। চীন থেকে হলিউডের এই যাত্রা শুধু সাফল্যের কাহিনি নয়, এর পিছনে ছিল অসংখ্য প্রতিকূলতা। সেসব অতিক্রম করে তিনি সফল হয়েছেন। আজ তাঁর জন্মদিন। কীভাবে তিনি গড়ে তুলেছেন বৈচিত্র্যময় ক্যারিয়ার।

শৈশব ও বেড়ে ওঠা
ক্লোয়ি ঝাওয়ের জন্ম ১৯৮২ সালে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। তিনি ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই পশ্চিমা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল। কৈশোরে তিনি বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেন। চীন থেকে যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। পরবর্তীতে পাড়ি জমান হলিউডে। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আরও প্রসারিত হয়।

চলচ্চিত্রে ঝোঁক
দুইবার অস্কারজয়ী পরিচালক ক্লোয়ি ঝাও। তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি টিশ স্কুল অব দ্য আর্টস-এ চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকেই তাঁর নির্মাতা হিসেবে ভিত্তি গড়ে ওঠে। পড়াশোনার সময় শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন আরেক পরিচালক স্পাইক লিকে। এরপর শুরু হয় চলচ্চিত্র নির্মাণের যাত্রা।
শুরুতে চারটি শর্টফিল্ম তৈরি করেন। তারপর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সংস মাই ব্রাদার্স টট মি’ নির্মাণ করেন। এটি কানে মনোনয়ন পায়। পরে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা লাভ করে। প্রথম সিনেমাই তাঁকে আলোচনায় ফেলে। তবে বড় সাফল্য এনে দেয় দ্বিতীয় ছবি ‘দ্য রাইডার’। এটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জেতে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাননি।

এশিয়ার অস্কারজয়ী নির্মাতা
২০২০ সালে নির্মিত ‘নোম্যাডল্যান্ড’ তাঁকে বিশ্বব্যাপী আরও জনপ্রিয় করে। এশিয়ার নারী নির্মাতা হিসেবে ৬টি শাখায় অস্কারে মনোনয়ন পান। দুটি শাখায় অস্কার জয় করেন। এই অর্জন তাঁকে ইতিহাসে স্থান করে দেয়। কারণ, তিনি দ্বিতীয় নারী এবং প্রথম এশীয় নারী হিসেবে সেরা পরিচালকের অস্কার জেতেন।

প্রতিকূলতার মুখোমুখি
চীন থেকে হলিউডে এসে স্থান করে নেওয়া সহজ ছিল না। দুই দেশের সংস্কৃতি তিনি ভালোভাবে আয়ত্ত করেছিলেন। চীন ও পশ্চিমা সংস্কৃতির দ্বৈত পরিচয়ের জন্য নানা সময় সমালোচনা ও সাংস্কৃতিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। শুরুর দিকে বড় প্রজেক্ট থেকে কাজ ছাড়তে হয়। অনেক সময় কাজই পাননি।

‘আমি প্রিন্সের সঙ্গে একাধিকবার ডেট করেছি’。

এখন তিনি অনুপ্রেরণার নাম
নানা বাধা অতিক্রম করে সাফল্য অর্জনকারী এই পরিচালক এখন নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের অনুপ্রেরণা। তাঁকে পছন্দ করা হয় কারণ তাঁর চলচ্চিত্রে বাস্তব মানুষ, প্রকৃতির বিশালতা এবং নিঃশব্দ আবেগের অপূর্ব মিলন রয়েছে, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। ১৯৮২ সালের ৩১ মার্চ তাঁর জন্মদিন। সর্বশেষ ‘হ্যামনেট’ সিনেমা নিয়ে আলোচনায় আসেন।