লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান ফেসবুকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে একটি পোস্ট দেন। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে তিনি স্থানীয়ভাবে সংগঠিত আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আমরুল হাসান মোল্লা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তাঁর সঙ্গে দলের অন্য নেতা-কর্মীদের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল বেলা একটার দিকে ‘এমডি রাকিবুল হাসান’ নামে থাকা ফেসবুক আইডি থেকে ‘টালবাহানা না করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন’ শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। ওই ফেসবুক আইডি রাকিবুলের বলে নিশ্চিত হয়েছে। গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই রাকিবুলের বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।

লালমনিরহাট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ সাদিকুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, এর আগে বিতর্কিত মন্তব্য করায় রাকিবুলকে দুবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। এ অবস্থায় তাঁকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, রাকিবুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে লালমনিরহাট জেলা শহর ও আদিতমারীতে তিনি সামনের সারিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এ ছাড়া ২০২২ সালে বিএনপির আন্দোলনে অংশ নিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হন।

বহিষ্কারের প্রসঙ্গে রাকিবুল হাসান বলেন, ‘স্কুলজীবন থেকেই বিএনপির নীতি ও আদর্শের প্রতি আমার আগ্রহ। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দলের অবস্থান আমাকে আকৃষ্ট করেছে। দশম শ্রেণি থেকেই ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত আছি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান তথা গণ–আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমি চাই এসব ঘটনার বিচার হোক এবং দেশের মানুষের জন্য গণভোট বাস্তবায়ন করা হোক। শুধু একটি পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’