টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। গত রোববার পশ্চিমবঙ্গের দিঘার তালসারিতে শুটিংয়ের সময় পানিতে ডুবে মারা যান এই ৪৩ বছর বয়সী অভিনেতা। ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি চলচ্চিত্রজগতে পরিচিতি লাভ করেন। ব্যক্তিজীবনে ২০১০ সালে এই ছবির সহ–অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে বিয়ে করেন রাহুল। ২০১৭ সাল থেকে দম্পতি আলাদা বসবাস করছিলেন এবং পরে বিচ্ছেদও হয়। তবে ছেলে সহজকে নিয়ে ২০২৩ সালে তাঁদের সম্পর্কের বরফ গলে যায়। সেই বছরের সেপ্টেম্বরে নিজের ফেসবুকে রাহুল লিখেছিলেন, ‘শহরজুড়ে বৃষ্টি। তার মধ্যেই নাকি ধারায় ধারায় কাটাকুটি হয়ে মিটে গেল সব। নতুন সুযোগ, আবার একসঙ্গে।’

আইনি জটিলতা কাটিয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। সে সময় আনন্দবাজার অনলাইনকে রাহুল বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে সংসার করছি। খুব শিগগির প্রিয়াঙ্কার বিল্ডিংয়ে একটা ফ্ল্যাট কিনছি। দুই পক্ষের আইনি জটিলতা মিটে গেছে। আমরা অনেক দিন একসঙ্গে আছি, তবে আপাতত আমি বেশির ভাগটা আমার মায়ের সঙ্গে থাকি। সপ্তাহান্তে সবাই একসঙ্গে সময় কাটাই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘স্বামী-স্ত্রী ছিলাম, আমরা সেটাই আছি।’

গতকাল রাতে রাহুলের মৃত্যুর পর প্রথমবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা মিলে এই ক্ষতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছি।’ পাশাপাশি বন্ধু ও সংবাদমাধ্যমের সহকর্মীদের কাছে কঠিন মুহূর্তে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন। ফেসবুকে একটি পোস্টে প্রিয়াঙ্কা লিখেছেন, ‘এটি আমাদের জন্য গভীর শোক ও দুঃখের সময়। এই কঠিন মুহূর্তে আমরা আন্তরিকভাবে কিছুটা ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তা কামনা করছি। একজন সন্তান, একজন মা, একটি গোটা পরিবার এবং প্রিয়জনেরা একসঙ্গে এই ক্ষতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। আমরা আমাদের বন্ধু ও গণমাধ্যমের সহকর্মীদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, এই কঠিন মুহূর্তে আমাদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন। এই মুহূর্তে আমাদের শান্তিতে শোক পালনের সুযোগ দিন। এই সময়ে আপনাদের সহমর্মিতা ও সমর্থন আমাদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান।’

সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে