পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আজ সোমবার বেলা একটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী ২৭ জন। হাসপাতালের ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পাশের বারান্দায় আলাদাভাবে রোগীদের চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত মোট ১২৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। গত এক সপ্তাহে রোগীর চাপ বেড়েছে। গত আট দিনে ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ছয়জন শিশু এবং দুজন নারী। এখন রোগী ভর্তি রয়েছেন ২৭ জন।
আজ সোমবার দুপুরে হাসপাতাল পরিদর্শন করা গেলে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা। ঠান্ডা, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত শিশুরা ভর্তি হয়েছেন। শিশু ওয়ার্ডের বারান্দার এক কোণে কাচ দিয়ে পৃথক করা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’। ২০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই কর্নার পূর্ণ হওয়ায় পাশের বারান্দায় কয়েকজন রোগীকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।
রোববার রাতে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন পাবনা জেলা সদরের গাছপাড়া গ্রামের নার্গিস আক্তার। তিনি বলেন, ছেলের প্রথমে জ্বর ছিল। এরপর গায়ে র্যাশ বের হয়। পরে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়া শুরু হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ছেলেকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
জেলা সদরের কাশিপুর গ্রামের মায়মুনা আক্তার মেয়েকে নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘বেটিডা খুব কষ্ট পাতিছে। উয়ের কষ্টে আমাগের খাওয়া–ঘুম হারাম হয়া গেছে। আল্লাহ আর কাউক যিন এই রোগ না দেয়।’
হাসপাতালের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে প্রতিদিনই নতুন রোগী আসছেন। অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাম আইসোলেশন কর্নার বড় করার কথা ভাবা হচ্ছে। রোগীর চাপ যদি বাড়তেই থাকে, তবে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হাম পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। প্রতিটি হাসপাতালেই হামে আক্রান্তদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে।’ তিনি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে। প্রতিদিন দু-একজন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।






