হারিয়ে যাওয়া চকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধার সম্ভব, তবে এর জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা, স্থানীয় উদ্যোগ, নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং জাতীয় পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে।
শনিবার বিকেলে চকরিয়ার উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মুক্তকণ্ঠ সম্পাদক মতিউর রহমান এ কথা বলেন।
‘হারিয়ে যাওয়া চকরিয়া সুন্দরবন ফিরে পাওয়ার পথ কী’ শিরোনামে আয়োজিত এই সভার আয়োজক ছিল মুক্তকণ্ঠ। সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা, গবেষক, পরিবেশকর্মী, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, বন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তারা নিশ্চিহ্ন চকরিয়া সুন্দরবন নিয়ে নানা মতামত ব্যক্ত করেন।
চকরিয়া সুন্দরবন পুনরুদ্ধারে স্থানীয় মানুষ, প্রশাসন, পরিবেশবাদী সংগঠন ও গণমাধ্যম—সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন মুক্তকণ্ঠ সম্পাদক মতিউর রহমান।
তিনি বলেন, এ কাজ কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার পরিবর্তন হয়, নীতিনির্ধারক বদলায়, প্রশাসনিক বাস্তবতা পরিবর্তিত হয়—সব মিলিয়ে এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। তাই ধৈর্য ধরে ধারাবাহিকভাবে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে মতিউর রহমান বলেন, মুক্তকণ্ঠ এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে। সংবাদ প্রকাশ, বিশেষ আয়োজন, সাক্ষাৎকার, রাউন্ডটেবিল আলোচনা—বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আনা হবে।
স্থানীয় বিষয়কে জাতীয় পর্যায়ে নেওয়ার জন্য পরিকল্পিত উদ্যোগ দরকার বলে মুক্তকণ্ঠ সম্পাদক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে স্থানীয় প্রতিনিধিদের ঢাকায় নিয়ে মন্ত্রী, সচিব, বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করা যেতে পারে। এতে বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে।
স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী—সকলকে একত্রিত করে ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়তে হবে বলে মতিউর রহমানের মত। নিয়মিত আলোচনা, জনসমাবেশ, সচেতনতা কার্যক্রম এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় চালিয়ে যেতে হবে।
দেশের অন্যতম প্রাচীন ম্যাঙ্গ্রোভ বা কুমিরী বন ছিল চকরিয়া সুন্দরবন। একসময় চকরিয়ার চতুর্দিক ঘিরে ছিল ঘন বন। এর পূর্বে আরাকান সড়ক, উত্তর-পূর্বে জনবসতি, কৃষিভূমি, লবণ মাঠ, সোজা দক্ষিণে মহেশখালী চ্যানেল। মাতামুহুরী নদীর পশ্চিম পাড়ের সুন্দরবন রামপুর এলাকা নামে পরিচিত ছিল এবং পূর্ব পাড়ে ছিল চরণদ্বীপ।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার শহরে যাওয়ার পথে চকরিয়া উপজেলা শহর। এখানেই ছিল বনটির অবস্থান। কিন্তু কয়েক দশকে বনটি হারিয়ে যায়। এখন মাত্র একটি গাছ টিকে আছে।
গত বছরের ২৪ জুলাই ‘যে বনে একটি মাত্র গাছ’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে মুক্তকণ্ঠ। আজ হয়েছে আলোচনা সভা।
সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মোহাম্মদ আল আমীন, মুক্তকণ্ঠের উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম, গবেষক সৈয়দ মঈনুল আনোয়ার, চকরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ণ দেব, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হুদা, কক্সবাজার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উত্তর) মো. মারুফ হোসেন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় আরও যাঁরা ছিলেন
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন সুলতানা, বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সভাপতি সরওয়ার আলম, চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ চৌধুরী, আইনজীবী লুৎফল কবির, চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এম জাহেদ চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজবাউল হক, উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ)–এর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীন, চকরিয়া সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারুল আমিন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) চকরিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আলো, জীববৈচিত্র্যবিষয়ক গবেষক নাছির উদ্দিন ও স্থানীয় বাসিন্দা শামসুদ্দিন।






