পথচলার চার দশক পূর্তি উদযাপনের উপলক্ষে ২০২৪ সালে ‘ফোরটি ইয়ার্স লিগ্যাসি কনসার্ট ট্যুর’-এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠানে অংশ নেয় রক-মেটাল ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’। কিন্তু ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও লিড গিটারিস্ট ইব্রাহিম আহমেদ কমলকে সেখানে দেখা যায়নি। তখন অসুস্থতা ও পরিবারের জন্য সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এবার তিনি জানিয়েছেন যে মার্কিন দূতাবাস তার ভিসা আবেদন বাতিল করে দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনে চলমান ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করে দেশটির পক্ষে অবস্থান নেওয়াই এর কারণ বলে মনে করেন এই শিল্পী। এবছর গ্রীষ্মে আবারও যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট করতে যাচ্ছে ওয়ারফেজ, কিন্তু ভিসা পাওয়া নিয়ে কমল অনিশ্চিত। তাঁর ভাষ্য, ‘যে দেশে যাওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখতে পারব না, সেই দেশে আমার যাওয়ার দরকার নেই।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কমলের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে—পড়াশোনা, পারিবারিক সুখ-দুঃখ এবং না-পাওয়ার গল্প। নব্বই দশকে পড়াশোনার জন্য তিনি সেখানে যান। সেখানেই সড়ক দুর্ঘটনায় একমাত্র ছোট ভাইকে হারান। এরপর দেশটি ছেড়ে চলে আসেন এবং কখনো ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাও হয়নি।

ফেসবুক পোস্টে সেই সময়ের দুঃসহ স্মৃতি তুলে ধরে কমল লিখেছেন, ‘আমি ৯০ দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় পড়াশোনা করেছি। ওখানকার মানুষজন আমাদের প্রতি অত্যন্ত ভালো ছিলেন। ১৯৯৭ সালের ১১ আগস্ট এক আমেরিকান শ্বেতাঙ্গ মানুষের ভুলের কারণে আমার একমাত্র ছোট ভাই আহমেদ ইসাক আবদুল্লাহ কনক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। এতে আমাদের পরিবার ভেঙে পড়ে এবং আমি, আব্বা-আম্মা কেউই এই বিপর্যয় থেকে উঠে দাঁড়াতে পারিনি। আমি ১৯৯৮ সালে আমেরিকা থেকে পুরোপুরি চলে আসি। এরপর আর যাইনি, যেতে চাইনি।’

সর্বশেষ ২০২৪ সালে কনসার্টের জন্য আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদন করেন কমল। কিন্তু সেবার ভিসা পাননি। তিনি লিখেছেন, ‘২০২৪ সালে ওয়ারফেজের ইউএসএ ট্যুরের জন্য আমি ভিসার আবেদন করি। আমাকে ভিসা রিজেক্ট করা হয়। এতে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। আমি যে আমেরিকা দেখে এসেছি, ওই আমেরিকা আর নেই। আমার কাছে আমেরিকা পড়াশোনা করতে যাওয়ার একটি জায়গা ছাড়া নতুন কিছুই নয়।’

এবছর গ্রীষ্মে আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবে ওয়ারফেজ। ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন কমল। তবে এবারও ভিসা না পেলে আক্ষেপ নেই তাঁর। কমল লিখেছেন, ‘এই বছর সামারে ওয়ারফেজের আমেরিকান ট্যুর আছে। আমার মনে হয় না আমি আমেরিকা যেতে চাই। দরকার নেই আমেরিকায় শো করা। আমি মানবতায় বিশ্বাসী। যে দেশে যাওয়ার জন্য আমি সোশ্যাল মিডিয়াতে ফ্রি প্যালেস্টাইন লিখতে পারব না, সেই দেশে আমার যাওয়ার দরকার নেই। ওই দেশটা আমার জন্য অপয়া।’

সবশেষে কমল লিখেছেন, ‘দেশের মাটিতেই থাকব এবং সত্যকে সত্য বলব। সব সময় বলেছি, আমার সংগীত শুধু বাংলাদেশি এবং বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য। কখনো বিশ্ব জয়ের ইচ্ছা হয়নি। সত্যকে সত্য বলব।’