মদনপুর ইউনিয়নের এক প্রত্যন্ত গ্রামে দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা কিশোর হাসিব বড় হয়ে সফল উদ্যোক্তা হতে চায়। মদনপুর আলোর পাঠশালার দশম শ্রেণির ছাত্র হাসিব অভাব-অনটন ও সীমিত সুযোগ-সুবিধা সত্ত্বেও নিজেকে গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞ। ছোটবেলা থেকে কঠোর পরিশ্রম ও আত্মনির্ভরতার শিক্ষা তাকে জীবনের প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। তার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল নয়, প্রতিদিন খাবারের জন্য সংগ্রাম চলছে। কিন্তু হাসিব এই প্রতিকূলতাকে কখনো অগ্রগতির পথে বাধা হতে দেয়নি, বরং দারিদ্র্যই তার প্রেরণা হয়েছে নিজেকে বদলানোর ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের।

প্রতিদিন ভোরে ঘুম ভেঙে হাসিব মাঠে যায়। কৃষিকাজে তার গভীর আগ্রহ রয়েছে। ধান, শাকসবজি চাষের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতি শেখার চেষ্টা করছে সে। গরু, ছাগলসহ পশুপালনেও আগ্রহী। নিজের ছোট খামারে নিয়মিত পরিচর্যা করে ধীরে ধীরে আয় বাড়ানোর পথ খুঁজছে।

হাসিব বিশ্বাস করে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমে কৃষি ও পশুপালন খাতে সফল ব্যবসা গড়া সম্ভব। তাই সে শুধু কাজই করছে না, নতুন কৌশল শেখার জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিচ্ছে। তার উদ্যোগী মনোভাব স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গ্রামের অনেক তরুণ কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ হয়ে থাকলেও হাসিব ভিন্ন পথ দেখাচ্ছে। সে বলে, “চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই কিছু করা উচিত।” এই চিন্তা অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে। স্থানীয়রা মনে করেন, হাসিবের মধ্যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের মানসিকতা রয়েছে। সুযোগ পেলে সে বড় উদ্যোক্তা হবে—এমন আশা সবার। তবে এর জন্য দরকার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।

হাসিবের স্বপ্ন শুধু নিজের জন্য নয়। সে চায় তার সফলতায় গ্রামের যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে। দেশের কৃষিখাতকে সমৃদ্ধ করে অর্থনীতিতে অবদান রাখতে চায়। এই সংগ্রামী তরুণ আমাদের অনুপ্রেরণা। সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পেলে হাসিবের মতো তরুণরাই দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। মদনপুর ইউনিয়নের এই ক্ষুদ্র গ্রাম থেকে হয়তো একদিন উঠে আসবে একজন সফল উদ্যোক্তা।