বাবার শূন্যতা আর জীবনের নানা সীমাবদ্ধতাকে জয় করে সাফল্যের পথে এগিয়ে চলছেন মোছা. শারমিন আক্তার। মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার প্রথম নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
মুক্তকণ্ঠ চরের বাসিন্দা শারমিন আক্তারের বাবা তোফাজ্জল হোসেন মৃত। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বাবার অভাব তাকে তাড়িয়ে বেড়ালেও, সেই কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করে পড়াশোনার প্রতি অবিচল ছিলেন তিনি। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৩.৭২ পেয়ে কৃতকার্য করেছেন শারমিন।
শারমিনের এই অর্জনের মূলে রয়েছে তার কঠোর অধ্যবসায়, পরিবারের সমর্থন এবং শিক্ষকদের নিরন্তর অনুপ্রেরণা। প্রত্যন্ত এলাকার একজন মেয়ে হিসেবে শিক্ষা গ্রহণ করে এসএসসি পর্যন্ত পৌঁছানো তার জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি আলোর পাঠশালার জন্যও এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়।
বাবা তোফাজ্জল হোসেন মেয়ের এই সাফল্য দেখার সুযোগ পাননি, তবে শারমিনের এই অর্জনের সাথে বাবার স্মৃতিগুলো মিশে আছে। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি।
নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি শারমিনের লক্ষ্য এখন অন্য সবার জন্য শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি ভবিষ্যতে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চান। তার ইচ্ছা, যারা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত, তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করা।
মুক্তকণ্ঠ চর আলোর পাঠশালার প্রথম মেয়ে শিক্ষার্থী হিসেবে শারমিনের এই সাফল্য একটি নতুন শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে সমাজের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার বড় স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।