নোয়াখালী সদর উপজেলার আন্ডারচর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় এক বাড়িতে ঢুকে তিন সদস্যকে ছুরিকাঘাত করার পর হামলাকারী যুবক জনতার পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিহত যুবকের নাম মো. নীরব (২৬)। এর আগে সকাল ১০টার দিকে লোকজনের পিটুনিতে তিনি আহত হন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। মাদক নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে এই হামলা ও মারামারি হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে আন্ডারচর ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকার রুবেল মাঝির বাড়িতে দুই সহযোগীসহ হামলা চালান একই এলাকার মো. গণি মাঝির ছেলে মো. নীরব। তাঁরা ওই সময় রুবেল মাঝির বাড়ির তিন সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন।

হামলা ও ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন নীরব ও তাঁর সহযোগীদের ধাওয়া দেন। এ সময় দুই সহযোগী পালিয়ে যায়, কিন্তু নীরবকে ধরে এলাকাবাসী পিটুনি দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুর রহমানসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুমূর্ষু নীরবকে উদ্ধার করে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

জানতে চাইলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম। মুক্তকণ্ঠকে তিনি বলেন, "মাদক নিয়ে ঝামেলার জেরে রুবেল মাঝির বাড়িতে দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে আজ সকালে হামলা করেছিলেন নীরব। তাঁরা তিনজনকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে নীরবকে আটক করে পিটুনি দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে তিনিসহ পুলিশ গিয়ে নীরবকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির পর সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নীরব মারা যান।"

ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আরও যাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাঁদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।