ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নূর আহাম্মদ (৭৩) নামের এক বৃদ্ধ নৈশপ্রহরীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে ছিল ভবনের বাইরে। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নূর আহাম্মদের বাড়ি উপজেলার মনিরবাগ গ্রামে। গতকাল সোমবার ভোরে উপজেলার মনিরবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার সকালে তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, নূর আহাম্মদ ২৫-৩০ বছর ধরে মনিরবাগ গ্রামের প্রয়াত শিল্পপতি শেখ আশরাফ উদ্দিনের বাড়িতে নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শিল্পপতি ১৯৯৮ সালে মারা যাওয়ার পর থেকে দ্বিতল বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বাড়িটিতে তিনি একাই থাকতেন। বাড়ির সীমানার ভেতরের পুকুরঘাটে সুযোগ পেলে একশ্রেণির বখাটে তরুণ-যুবক মাদক সেবন করতেন। এ নিয়ে নূর আহাম্মদের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হতো।
পুলিশ বলছে, দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নূর আহাম্মদ নিহত হয়েছেন। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় এমনটি হতে পারে।
নূর আহাম্মদের ছেলে সুমন মিয়া মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিন ভোরে তাঁর বাবা বাড়িতে আসতেন। সোমবার আসতে দেরি হওয়ায় তিনি ওই বাড়িতে যান। বাবাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি চিৎকার করে মানুষ জড়ো করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
গ্রামের লোকজনের ভাষ্য, নূর আহাম্মদ ছিলেন সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। তিনি দিনে-রাতে ওই বাড়িতেই থাকতেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, নূর আহাম্মদের লাশ আজ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। ওই ভবনের ভেতর থেকে কোনো মালামাল চুরি হওয়ার কোনো আলামত নেই। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সেবনে বাধা দিতে ভবন থেকে বের হয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ। দৃর্বত্তরা আড়ালে ধরে নিয়ে বৃদ্ধকে মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে রক্তাক্ত করে ফেলে গেছে। এতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।






