হবিগঞ্জে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক ওই নেতার নাম মাহদী হাসান। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মাহদীকে সন্ধ্যায় শহরের শায়েস্তানগরে গণ অধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি চৌধুরী আশরাফুল বারীর বাড়ি থেকে আটক করা হয়। এখন তাঁকে সদর থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে পরে জানানো হবে।
এদিকে মাহদী হাসানকে আটক করার খবরে সদর থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। রাত পৌনে নয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিলেন। পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ করে থানার ভেতরে অবস্থান করছেন। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা তুষার আহমেদ দাবি করেন, বিনা মামলায় মাহদীকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁকে না ছাড়া পর্যন্ত তাঁরা থানার সামনে অবস্থান করবেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে শায়েস্তাগঞ্জ থানা–পুলিশ। এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এনামুলকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন। এ সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের উদ্দেশে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’
খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তাঁর মধ্যস্থতায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ নিয়ে আজ মুক্তকণ্ঠতে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
পরে বিকেলে মুক্তকণ্ঠের এ প্রতিবেদকের কাছে একটি ভিডিও বার্তা পাঠান মাহদী হাসান। এতে তিনি বলেন, ‘আমাদের জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত এক ভাইকে অন্যায়ভাবে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার সময় উত্তেজনামূলক পরিস্থিতিতে অসাবধানতাবশত মুখ ফসকে একটি ভুল বার্তা দেশবাসীর কাছে পৌঁছেছে।’






