ঈদযাত্রায় প্রতিবছর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বাড়িফেরা মানুষের যে ভিড় দেখা যায়, এবার তা অনেকটাই কম। এতে প্রতিবছরের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটা আরামদায়ক বলে মনে করছেন ট্রেনে বাড়িফেরা অনেক যাত্রী।

আজ বুধবার ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অধিকাংশ ট্রেনে যাত্রীদের ভিড় কম ছিল। তবে সকাল ছয়টা থেকে আটটার মধ্যে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া কিছু আন্তনগর ট্রেনে মাঝারি ভিড় লক্ষ করা গেছে।

স্ত্রী সালমা রহমান ও মেয়ে মাইশা রহমানকে নিয়ে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে ঢাকার কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহ যাচ্ছেন মশিউর রহমান। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘এবারের যাত্রা একটু আরামদায়ক মনে হচ্ছে। প্রতিবারের মতো রাস্তায় যানজট বা ট্রেনে ভিড় চোখে পড়েনি। মানুষের ভিড় কম দেখে ভালো লাগছে।’

ঈদযাত্রায় ধাপে ধাপে মানুষ বাড়ি ফেরার কারণে যাত্রাটা স্বস্তিদায়ক হচ্ছে বলে মনে করেন হুমায়ুন কবির। স্ত্রী রূপা পারভিন এবং দুই মেয়ে আনিসা ইবনাত ও রাইসাকে নিয়ে বনলতা এক্সপ্রেসে রাজশাহী যাচ্ছেন। সঙ্গে রয়েছে পোষা পাখি ময়না।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নাড়ির বাড়িফেরা যেটাকে বলে, সেই যাত্রা, মানে বাড়ি ফিরছি। তবে এবার ঈদযাত্রায় অন্যান্য সময়ের তুলনায় ভিড় অনেক কম।’

শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি কমলাপুর থেকে ট্রেনে রাজশাহীর গোদাগাড়ি যাবেন। সঙ্গে আছে স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস, বড় মেয়ে নুসরাতুল জান্নাত, ছেলে তাসকিন আহমেদ ও ছোট মেয়ে মাউন। দুপুর ১২টার সময় তাঁদের বনলতা এক্সপ্রেসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

শহীদুল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ট্রেনের টিকিটের জন্য অনলাইনে ঢুকে দেখেন, মুহূর্তেই সব টিকিট শেষ। আজ তিনি স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েছেন। এখন পুরো পথ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত সব ট্রেন সময়মতো ছেড়েছে। যাত্রীরা স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন।

সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঈদে প্রতিদিন ঢাকা থেকে একটি ও জয়দেবপুর থেকে একটি স্পেশাল ট্রেনসহ ঢাকা থেকে মোট ৬০টি ট্রেন ছাড়বে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তনগর এবং বাকিগুলো লোকাল।