কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) আসনে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তা ছাড়া এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলে। এ সময় কিশোরগঞ্জের তিনটি আসনে ১০ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তিনটি আসনে মোট ২৯ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহীন রেজা চৌধুরী হলফনামায় স্বাক্ষর না করায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রহিম মোল্লা ও কাজী রেহা কবিরের ১ শতাংশ সমর্থকের ভোটের তথ্য সঠিক না থাকায় এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খাইরুল ইসলাম ঠাকুরের হলফনামা সঠিক ফরম্যাটে দাখিল না করায় মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলুর রহমান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রোকন রেজা শেখসহ পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনে মামলাসংক্রান্ত তথ্য গোপনের কারণে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি (নিবন্ধিত দল নয়) এ এইচ এম কাইয়ূমের (হাসনাত কাইয়ূম) ১ শতাংশ সমর্থকের ভোটের তথ্য সঠিক না থাকায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রমজান আলীসহ ছয়জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী নজরুল ইসলাম সম্পদ ও দায়ের তথ্য পূরণ না করায়, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মোহাম্মদ হাবিল মিয়ার সম্ভাব্য অর্থপ্রাপ্তি, সম্পদ ও দায়ের তথ্য অসম্পূর্ণ থাকায়; জাতীয় পার্টি মোহাম্মদ আয়ুব হোসেন সম্পদ ও দায় এবং বার্ষিক আয়ের বিবরণীতে তথ্য না দেওয়ায়; স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফুল হকের ১ শতাংশ সমর্থকের ভোটের তথ্য সঠিক না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ মূছা খানসহ আটজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা জেলার একমাত্র নারী প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমার মনোনয়নপত্রও ১ শতাংশ ভোটারের তালিকায় গরমিলের কারণে বাতিল করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ১ শতাংশ ভোটারের তালিকায় গরমিলের কারণে হাসনাত কাইয়ূমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে এবং মামলাসংক্রান্ত তথ্য গোপন করার কারণে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

হাসনাত কাইয়ূমসহ মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা জানান, মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা আপিল করবেন।

রোববার কিশোরগঞ্জ ১, ২ ও ৩ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।