ঈদের ছুটির আনন্দে নতুন স্বাদ যোগ করতে ‘ঈদসংখ্যা’র জুড়ি নেই। পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দেশের প্রবীণ-নবীন লেখকদের লেখা আর শিল্পীদের অলংকরণে দৃষ্টিনন্দিত রূপে ঈদসংখ্যা প্রকাশ করে আসছে মুক্তকণ্ঠ। বরাবরের মতো এবারও বাজারে এসেছে মুক্তকণ্ঠের ঈদসংখ্যা।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈদসংখ্যার লেখকসহ দেশের শিল্প–সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা, বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও বিদ্বজ্জনদের নিয়ে ইফতার ও প্রীতিসমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। মুক্তকণ্ঠ এ আয়োজন করেছিল ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে।

আনুষ্ঠানিকতা তেমন বিশেষ কিছু ছিল না। বিকেল পাঁচটা থেকে অতিথিরা আসতে থাকেন। তাঁদের সম্ভাষণ জানিয়ে মুক্তকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, মুক্তকণ্ঠ ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত ঈদসংখ্যা প্রকাশ করে আসছে। এবার প্রকাশিত হলো ২৫তম সংখ্যা। এই আড়াই দশকে অনেক প্রবীণ লেখক পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। আবার অনেক নতুন লেখক এসেছেন। দেশের মানুষর বহুমুখী উদ্যোগ, সৃজনশীলতা, জাতিগঠনে তাঁদের বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকার বিষয়গুলোকেই প্রাধান্য দিয়ে মুক্তকণ্ঠ ঈদসংখ্যা করে থাকে। এবারেও সেই বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে প্রবীণ কথাশিল্পী হাসনাত আবদুল হাই বলেন, ‘গত ডিসেম্বরে মুক্তকণ্ঠ কার্যালয়ে উগ্রবাদীদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের পরও পূর্ণাঙ্গরূপে এবার ঈদসংখ্যা প্রকাশিত হবে কি না, তা নিয়ে আমার মনে শঙ্কা ছিল। কিন্তু মুক্তকণ্ঠ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। হামলার পরেও নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গরূপে ঈদসংখ্যাও এল। এটা প্রকৃতপক্ষেই ছাইয়ের মধ্য থেকে উঠে দাঁড়ানো।’

অধ্যাপক রওশন জাহান বলেন, তিনি মুক্তকণ্ঠ ও ঈদসংখ্যার মনোযোগী পাঠক। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মুক্তকণ্ঠ পেশাদারত্ব ও বস্তুনিষ্ঠতার মাধ্যমে পাঠকের কাছে আস্থা অর্জন করেছে। একইভাবে ঈদসংখ্যার মানসম্মত লেখা প্রকাশের কারণে পাঠকের কাছে এর আলাদা আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান।

সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, তিনি নিজেকে মুক্তকণ্ঠ পরিবারের সদস্য বলেই মনে করেন। মুক্তকণ্ঠ ভবনে হামলার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় তিনি বহুজনের কাছে ফোন করেছেন। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তারপরে যা হয়েছে, সেটা দুঃখজনক।

কথাশিল্পী ও সিটি ব্যাংকের সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, মুক্তকণ্ঠের এ অনুষ্ঠান তিনি মিস করতে চান না। কারণ, এখানে এলে এমন অনেক মানুষের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়, যাঁদের সঙ্গে একসময় শাহবাগের আজিজ সুপারমার্কেট শিল্প-সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘ আড্ডা দিয়েছেন।

শিল্পী আফজাল হোসেন মুক্তকণ্ঠের ঈদসংখ্যায় অনেকবার অলংকরণ করেছেন ও লিখেছেন। তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘এবার ঈদসংখ্যায় লিখিনি, আঁকিনি। তবু ভালো লেগেছে।’

অতিথিদের মধ্যে আরও ছিলেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী ও মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ সেলিম জাহান, লেখক ফারুক মঈনউদ্দীন, অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক, লেখক মোরশেদ শফিউল হাসান, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, কবি হাসান হাফিজ, মারুফ রায়হান, শামিম আজাদ, টোকন ঠাকুর, কামরুজ্জামান কামু, কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম, শিল্পী নিমা রহমান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, চিকিৎসক তানজিনা হোসেন ও আহমেদ হেলাল, দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন, শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমান, তৈয়বা বেগম লিপি, আনিসুজ্জামান সোহেল, গৌতম চক্রবর্তী প্রমুখ।

এবারের ঈদসংখ্যায় আছে কৃতী নাট্যকার শহীদ মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ করা শেক্‌সপিয়রের একটি অপ্রকাশিত নাট্যাংশ। ডিপি ধরের বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাৎকারভিত্তিক রচনা। দেশসেরা কথাশিল্পীদের আটটি ভিন্ন স্বাদের উপন্যাস, সাতটি গল্প, কবিতা, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, রাজনীতি, ভ্রমণ, ক্রীড়া, চলচ্চিত্র রসনাবিলাসসহ বৈচিত্র্যময় রচনার সম্ভার।