ঢাকার ধামরাইয়ে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে সারা শরীরে আগুন লেগে যায় এক গৃহবধূর। তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান। এ সময় তাঁরাও দগ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কিষাণনগর এলাকায় স্থানীয় বাদশা মিয়ায় দোতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন গৃহবধূ সুমনা বাদশা (৪৫), তাঁর স্বামী বাদশা মিয়া (৫৬), ছেলে আরাফাত (২২) ও আবু বকর সিদ্দিক (১৬)।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শাওন বিন রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, আগুনে সুমনা বাদশার শরীরের ৯৫ শতাংশ, বাদশা মিয়ার ২ শতাংশ, আরাফাতের ১ শতাংশ ও আবু বকর সিদ্দিকের ২ শতাংশ পুড়ে গেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে রান্নাঘরে চুলা জ্বালাতে গিয়েছিলেন সুমনা বাদশা। দেশলাই জ্বালাতেই ঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। আগুন তাঁর পুরো শরীরে জ্বলতে থাকে। এ সময় বাসায় থাকা সুমনার স্বামী ও দুই ছেলে তাঁকে বাঁচাতে গেলে তাঁরা তিনজনও অগ্নিদগ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করেন। গ্যাস বিস্ফোরণে রান্নাঘরের জানালার কাচ ভেঙে যায়। খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়। তবে তার আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন।

কিষাণনগর এলাকার বাসিন্দা অসীম ঘোষ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘বাদশা কাকার বাসায় বিকট শব্দ শুনে দৌড়ে সেখানে যাই। গিয়ে দেখি, পুরো রান্নাঘরের অবস্থা খারাপ এবং জানালা ভেঙে গেছে। আশপাশের লোকজন বলছিল, লাইনের গ্যাসের চুলা হয়তো অন ছিল। চুলা অন থাকার কারণে রুমের ভেতরে গ্যাস জমে গিয়েছিল। পরে যখন আগুন ধরানো হয়, তখনই বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাদশা কাকার স্ত্রীর অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা সবাই মিলে তাঁকে ধরাধরি করে গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠাই। তখন দেখি তাঁর মুখ একদম ঝলসে গেছে এবং শরীরের অবস্থাও খুব একটা ভালো না।’

ধামরাই ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা মো. আল আমিন খান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। তবে এর আগেই স্থানীয় লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরে গ্যাসের লাইন বা চুলার লিকেজ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।