শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার আরশিনগর এলাকায় নকল শিশুখাদ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। আট ধরনের নকল শিশুখাদ্য এবং ওই খাদ্য তৈরির ক্ষতিকারক রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষতিকারক নকল শিশুখাদ্য উৎপাদন ও মজুত করার অভিযোগে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ওই কারখানার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

গতকাল সোমবার ভেদরগঞ্জের আরশিনগর গ্রামে ওই কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কার্যালয় ও পুলিশ। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ নকল শিশুখাদ্য ও শিশুখাদ্য তৈরির বিভিন্ন নকল উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্র জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরকুমারিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাবরুল এস এম হক নামের এক ব্যবসায়ী কাছের আরশিনগর গ্রামে একটি শিশুখাদ্য তৈরির কারখানা স্থাপন করেন। ওই কারখানায় বিভিন্ন মেশিন বসিয়ে লিচি, আইস ললি, বিভিন্ন ধরনের কোমল পানীয়সহ ৮টি খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। পণ্যের কোনো অনুমোদন ছিল না। পণ্যগুলো তৈরিতে কৃত্রিম সুগন্ধি, রাসায়নিকযুক্ত নকল তরল চকলেট, টেক্সটাইলে ব্যবহৃত রং ব্যবহার করা হচ্ছিল।

অভিযানের সময় কারখানার মালিক জাবরুল এস এম হক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তখন ওই কারখানার তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলামকে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত ঘোষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই জরিমানা করেন।

বিষয়টি জানার জন্য কারখানার মালিক জাবরুল এস এম হকের মুঠোফোনে ফোন করা হয়। কিন্তু ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা যায়নি। তাঁর স্বজনেরা জানান, তিনি এই মুহূর্তে সৌদি আরবে রয়েছেন। কারখানার তত্ত্বাবধায়ক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কারখানাটি পরিচালনা করছি। এখানে কোনো নকল পণ্য তৈরি করা হয় না। আর অনুমোদনের কাগজপত্র মালিকের কাছে রয়েছে। তিনি দেশে ফিরে এলেই তা দেখানো যাবে।’

শরীয়তপুর জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ওই কারখানায় শিশুখাদ্য তৈরিতে যেসব ক্ষতিকারক রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। এগুলো স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করা হচ্ছিল। খাদ্যগুলো শিশুরা খেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে পড়বে। প্রাথমিকভাবে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর কারখানাটির অনুমোদন ও পণ্য উৎপাদনের সপক্ষে বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারলে কারখানাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।