স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার প্ররোচনায় অভিযুক্ত অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর (নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া) খোঁজ মিলছে না। রোববার রাতে দেশে ফিরেছেন—এমনটা শোনা গেলেও তাঁর দেখা মেলেনি। কেউ বলতে পারছেন না এখন তিনি কোথায়।
আলভী ও ইকরাদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছে, গতকাল রোববার বিকেলে জাহের আলভী নেপাল থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বিমানবন্দরের ভেতরেই অবস্থান করেন। ঢাকায় ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর একজনের মধ্যস্থতায় তিনি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন। এদিকে আলভীর ফোন, ফেসবুকসহ সব ধরনের যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ থাকায় দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
.কাঁদতে কাঁদতে ইকরার বাবা বললেন, মেয়েটাকে ভিক্ষা চেয়েছিলাম কিন্তু দেয়নি....গতকাল দুপুরে মুক্তকণ্ঠের সঙ্গে কথা হয় অভিনয়শিল্পী জাহের আলভীর। তিনি কয়েক দিন আগে শুটিংয়ে যান নেপালে, একই নাটকের শুটিংয়ে আলভীর প্রেমিকা সেই অভিনয়শিল্পীও ছিলেন, যাঁকে নিয়ে আলভীর স্ত্রী ইকরার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।
আলভী মুক্তকণ্ঠকে গতকাল দুপুর ১২টায় জানান, তিনি সন্ধ্যার মধ্যে নেপাল থেকে ঢাকায় ফিরবেন। ফিরে এসেই পুরো ব্যাপার নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন। আলভী তাঁর কথামতো দেশে ফিরে থাকলেও এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো কথা সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলেননি। এদিকে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে আলভী তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি বন্ধ করে রেখেছেন। ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না হোয়াটসঅ্যপেও।
.মৃত্যুর আগে আলভীর স্ত্রী ইকরা কী কী বলেছিলেন, জানালেন বান্ধবী.বিনোদন অঙ্গনে আলভীর ঘনিষ্ঠজনদের কেউ কেউ বলছেন, এভাবে গা ঢাকা দিয়ে থাকলে সামনে আলভীর বিপদই বাড়বে। তাঁর উচিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলা। সেদিন কী এমন ঘটনা ঘটেছিল যে ইকরাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে!
আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির নামে মামলা করা হয়েছে। গতকাল ঢাকার পল্লবী থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী ইকরার বড় মামা শেখ তানভীর আহমেদ। মামলার অভিযোগে জাহের আলভী ও নাসরিন সুলতানার আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং দুই বছর ধরে অবহেলা ও নির্যাতনের বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছেন তানভীর আহমেদ।
.গতকাল পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মামলা হয়েছে। তদন্ত চলমান। আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, এজাহারের একটি কপি বিমানবন্দরের অভিবাসন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত আসামি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন, যাতে দেশে আসার পর দ্রুত গ্রেপ্তার করা যায়।
আজ সোমবার সকালে এস এম আলমগীর জাহান জানান, আলভীর ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই। তদন্ত চলমান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আজিম আহমেদ বলেন, ‘একবার শুনি আলভী দেশে আসছে, একবার শুনি আসেনি। ধোঁয়াশা, ধোঁয়াশা। আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।’






