মুক্তকণ্ঠ ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় দুই মাসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা জানিয়েছেন।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মুক্তকণ্ঠের পুড়িয়ে দেওয়া ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা তখন জানিয়েছি এবং সুষ্ঠু বিচারের জন্য পদক্ষেপ নিতে তখন দাবি করেছি। কিন্তু এখন যেভাবে হোক আমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। তো সে জন্য মুক্তকণ্ঠ পরিবার এবং সাংবাদিক গোষ্ঠী, লেখক, বুদ্ধিজীবী, সাহিত্যিক সবারই একটা দাবি হচ্ছে, এর সুষ্ঠু তদন্ত হতে হবে। তদন্তের দায়িত্ব আমরা নিতে পারি, বিচারের দায়িত্ব বিচার বিভাগের।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রম সমাপ্ত করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিলের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। তারপর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেটা আদালতের ব্যাপার।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সেই বিচারিক কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা চাইব, যাতে দৃষ্টান্তমূলক সাজা হয় এবং এই জাতীয় ঘটনা ভবিষ্যতে আমাদের না দেখতে হয়। এই জাতিকে না দেখতে হয়।’

মুক্তকণ্ঠ ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীর সামনে একটা মেসেজ (বার্তা) গেছে যে বাংলাদেশে নিউজপেপারের (সংবাদপত্রের) ওপর যখন খুশি আক্রমণ করা যায়। এই দেশের যারা বলতে গেলে প্রগতির বিরুদ্ধে, যারা সাম্প্রদায়িক এবং উগ্রবাদী শক্তি; তাদের একটা রমরমা ভাব ছিল— এই মেসেজটা সারা পৃথিবীতে গেছে। এর দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীকে তার একটা উল্টো মেসেজ দেব। না, এ রকম কর্ম করে বাংলাদেশের অগ্রগতি, প্রগতি এবং সমাজের অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।’

মুক্তকণ্ঠের পোড়া ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা একটা জীবন্ত জাদুঘরের মতোই মনে হলো। ধ্বংসস্তূপ থেকে কীভাবে জেগে ওঠা যায়,তার একটা প্রচেষ্টা তারা নিয়েছে। তবে এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আমরা যা কিছুই দেখেছি এবং শিখতে পেরেছি তা হলো, হয়তো সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী শক্তি প্রগতির দড়িকে টেনে ধরতে চায়; কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী যে সেটা কখনো পারেনি।’

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের যে ইশতেহার, সেখানে বলেছি—আমরা স্বাধীন গণমাধ্যম চাই এবং গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা আমরা প্রতিষ্ঠা করব। বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতায় আমরা বিশ্বাসী এবং তা প্রতিষ্ঠা করব।’

মুক্তকণ্ঠের পুড়িয়ে দেওয়া ভবন ঘিরে শিল্পী মাহ্‌বুবুর রহমানের তৈরি করা ‘আলো’ শীর্ষক এই প্রদর্শনী শুরু হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অগ্নিদগ্ধ ভবনটিতে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে। প্রাথমিকভাবে প্রদর্শনী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার কথা ছিল। পরে প্রদর্শনীর সময় দুই দিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত এই প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।