লালমনিরহাট-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লালমনিরহাট জেলা কমিটির দুই নেতা। গতকাল শনিবার রাতে লালমনিরহাট সার্কিট হাউসের ভিআইপি মিলনায়তনে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রীকে তাঁরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় জেলা বিএনপি, লালমনিরহাট সদর উপজেলা ও লালমনিরহাট পৌর বিএনপির নেতারা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সশরীর উপস্থিত হয়ে আসাদুল হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো আওয়ামী লীগের দুই নেতা হলেন জেলা কমিটির অর্থ সম্পাদক হাবিবুর রহমান এবং শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শরওয়ার আলম।
এ বিষয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, আলোকিত লালমনিরহাট গড়তে দলমত–নির্বিশেষে সব মানুষের সহযোগিতা দরকার রয়েছে। সবাইকে নিয়ে, বিশেষ করে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতি, সন্ত্রাসের কোনো অভিযোগ নেই, যাঁরা লালমনিরহাটের উন্নয়নে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য প্রতিশ্রুত, তাঁদের সবার সহযোগিতায় লালমনিরহাটের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কার্যক্রম নিয়ে তিনি এগিয়ে যেতে চান।
মন্ত্রী আসাদুল হাবিবকে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টি মুক্তকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক শরওয়ার আলম। তিনি লালমনিরহাট সদরের হারাটি ইউনিয়নের কিশামত হারাটি গ্রামের বাসিন্দা ও লালমনিরহাটের আদিতমারীর মহিষখোচা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ।
মুক্তকণ্ঠকে শরওয়ার আলম বলেন, ‘বিএনপিতে যোগদান করতে নয়, আমার নিজ এলাকার এমপি ও মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু মহোদয়কে আলোকিত লালমনিরহাট সামাজিক আন্দোলন ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে সমর্থন জানাতে এবং মন্ত্রী হওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য লালমনিরহাট সার্কিট হাউসে গিয়েছিলাম।’
মুক্তকণ্ঠকে একই রকম কথা বলেন জেলা আওয়ামী লীগের অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
উল্লেখ্য, শরওয়ার আলম ও হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে এলাকার বাইরে ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে এলাকায় ফিরে আসেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসাদুল হাবিবকে ভোট দেওয়ার জন্য নিজ এলাকায় ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করেন তাঁরা।
শরওয়ার আলম ও হাবিবুর রহমান জানান, তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলুকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে বর্তমান পরিস্থিতিতে যতটুকু সম্ভব ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, এখন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ, কখনো উন্মুক্ত হলে, তখন সেই রাজনীতি করবেন কি না, সেটা তখন ভেবে দেখবেন। আপাতত তাঁরা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর আলোকিত লালমনিরহাট ও তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের সঙ্গে থাকতে চান।






