ফেড সুদহার বাড়ালে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রের ফেড সুদের হার বাড়ালে ডলারের আকর্ষণ বাড়ে, উন্নয়নশীল দেশ থেকে পুঁজি বের হওয়ার চাপ তৈরি হয়। আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেড সুদের হার বাড়ালে ডলারের আকর্ষণ বাড়ে, উন্নয়নশীল দেশ থেকে পুঁজি বের হওয়ার চাপ তৈরি হয়। আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিন বছরের বেশি সময় পর সুদের হার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ। এতে ঋণ ও বিনিয়োগের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশেও চাপ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে জুলাই মাসে প্রত্যাশার বিপরীতে কর্মসংস্থান কমেছে ২৩ হাজার। বেকারত্বের হার কমলেও নতুন নিয়োগের গতি মন্থর হওয়া এবং শ্রমবাজারের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ‘জাদুর কাঠি’ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ। টানা পঞ্চমবার সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেড।
উপসাগরীয় সংঘাত ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং এশিয়ার শেয়ারবাজারে পতন ঘটেছে। মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সুদহার প্রত্যাশা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়ের প্রভাবে বদলে যাচ্ছে সোনার বাজার। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার ভূমিকারও নতুন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর তেলের দাম বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগে সোনার দাম কমেছে। স্পট ও ফিউচার মার্কেটে দরপতনের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও নেমেছে।
অ্যালান গ্রিনস্প্যান ১৯৮৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত মার্কিন ফেডের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০-৯১ সালের মন্দা, ১৯৯৭-৯৮–এর এশীয় সংকট এবং ২০০১ সালের হামলার পর অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি পরিচালনায় সহায়তা করেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্র যখন নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাশিয়ার ডলার রিজার্ভ জব্দ করে, তখন অনেক দেশের বিকল্প রিজার্ভ খোঁজার গতি আরও বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে ধনী-গরিব বৈষম্য দ্রুত বাড়ছে। আবাসন, শেয়ারবাজার ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলো সম্পদ বৃদ্ধির সুফল বেশি পাচ্ছে।
সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী বার্তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনো স্থায়ী সমাধান কী হবে, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে আছেন।
মূলত পেশাদার অর্থনীতিবিদ, আর্থিক খাতে কাজ করা বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্ষদ থেকেই গভর্নর বা চেয়ারম্যান বেছে নেওয়া হয়।
এর আগে ২০২০ সালের জুনে রিজার্ভ প্রথমবারের মতো একই উচ্চতায় উঠেছিল, যা ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।
গত সপ্তাহে সোনার দাম পাঁচ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প কাকে ফেডের চেয়ারম্যান হিসেবে নেন, তা নিয়ে আশঙ্কা।
ফেডারেল রিজার্ভ জানিয়েছে, নীতি সুদহার হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে।
এবার ফেডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত যেমন অভূতপূর্ব ঘটনা, তেমনি পাওয়েল ট্রাম্প সম্পর্কে যা বললেন, তা–ও নজিরবিহীন।
দেশের বাজার ও বিশ্ববাজারে সোনার দাম নতুন রেকর্ড গড়েছে। চলতি বছর বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫০০০ ডলারে উঠতে পারে।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।
এক বছরের মাথায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই একচ্ছত্র ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। নতুন বছরের প্রথম কয়েক মাসেই ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে।