মুমিন কেন হতাশ হন না: জীবনযুদ্ধের সাতটি দিকনির্দেশনা
মুমিনের জীবনে হতাশার কোনো স্থান নেই। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বিস্তৃত। কোরআন ও হাদিসের আলোকে হতাশা মুক্তির সাতটি পথনির্দেশনা আলোচনা করা হয়েছে।
মুমিনের জীবনে হতাশার কোনো স্থান নেই। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও বিস্তৃত। কোরআন ও হাদিসের আলোকে হতাশা মুক্তির সাতটি পথনির্দেশনা আলোচনা করা হয়েছে।
তিনি প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি। বরং উত্তর দিলেন, ‘আমি আশা করি, আল্লাহ এদের বংশধরদের মধ্য থেকে এমন এক প্রজন্ম সৃষ্টি করবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।’
সাহাবি খোবাইব ইবনে আদি (রা.)-এর শাহাদতের ঘটনা থেকে ইমান, নবীপ্রেম, ধৈর্য ও দাওয়াতের পথে আত্মত্যাগের শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিদিন দীর্ঘসময় ভিন্ন মানসিকতা, ভিন্ন মেজাজ ও বিচিত্র সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হয়। কারো সঙ্গে মতের অমিল হলে মনের ভেতর ক্ষোভ তৈরি হয়।
ইসলামে সবর বা ধৈর্য মানে আদেশে অবিচল থাকা, পাপ থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকা।
প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও অনেকে সংকটে ভুগছেন। অন্যদিকে সীমিত আয় করেও অনেক মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করছেন। কীভাবে? কারণ প্রকৃত স্বাচ্ছন্দ্য উপকরণে নয়।
অসুস্থতার কারণে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী সবাই তাঁকে ত্যাগ করে চলে যায়। এমনকি তাঁকে জনবসতি থেকে দূরে এক নির্জন স্থানে ফেলে আসা হয়।
একবার একটি ছাগল এসে তাঁর প্রস্তুত করা খাবারের কিছু অংশ খেয়ে ফেললে তিনি স্ত্রীকে ধৈর্য ধরতে বলেন এবং প্রতিবেশীর প্রতি কোনো অভিযোগ না করতে নির্দেশ দেন।
ধৈর্য মানে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা। ছয়টি ধাপে আবেগ লিখে পর্যবেক্ষণ করে মানসিক স্থিরতা অর্জন করা যায়। হাদিস ও কুরআনের আলোকে এই সহজ কৌশল জীবনে প্রয়োগ করুন।
রোজা রাখা অবস্থায় অনেকেরই মেজাজ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত বিগড়ে যায়। সামান্য কারণে তর্কে জড়ানো বা যানজটে আটকে থাকলে অসহিষ্ণু হয়ে পড়া এক পরিচিত দৃশ্য।
দুঃসময় জীবনের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নয়; বরং এটি ইমানের পরিমাপক এবং আত্মশুদ্ধির সুযোগ। বিপদের মাধ্যমে আল্লাহ দেখেন, কে তাঁর দিকে ফেরে, আর কে বিমুখ হয়।
অনেক সময় বার্ধক্য বা মেজাজের কারণে বাবা-মা কর্কশ আচরণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রেও ইসলাম অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে তা মোকাবেলা করতে বলেছে।
মুসলিম পরিবারের জন্য সন্তানের বিচ্যুতি বড় কষ্টের। তবে একজন বাবা যখন নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধরেন, তখন তিনি আরও বেশি সম্মানিত হন।