হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’, দাবি ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তি হলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথটি আবার উন্মুক্ত হতে পারে—এমন আশার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তি হলে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন পথটি আবার উন্মুক্ত হতে পারে—এমন আশার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা ফের অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাব এল–মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের হামলায় চার নাবিক নিহত এবং ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বক্তব্যসহ নতুন কূটনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর নতুন একজন নিরাপত্তাপ্রধান নিয়োগের পাশাপাশি যুদ্ধকালীন কমান্ডারদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে বসিয়েছে।
চুক্তিটি যেন আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষকেই ক্ষুব্ধ না করে, সে ব্যাপারে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক সতর্ক ছিল।
যুদ্ধ ইরানের মানুষের জীবন, রাজনীতি ও সমাজকে আমূল বদলে দিয়েছে। বিবিসির সাংবাদিকের ইরান সফরের প্রতিবেদনে যুদ্ধের ক্ষত, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও রাজনৈতিক বিভাজন উঠে এসেছে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ‘কেবল আংশিক দর-কষাকষি’ করছে এবং তেহরান অর্থনৈতিক চাপ কতটা সামলাতে পারছে—তা তারা পর্যবেক্ষণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতিপূরণসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না—ইরানের এমন অবস্থান জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির একটি বিরল ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশই সংঘাত থামিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে।
ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খোঁজার কথা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।
সর্বশেষ দুটি যুদ্ধে হিজবুল্লাহর কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার পটভূমিতে ইতিবাচক বার্তার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী করিম ঘারিবাবাদি। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মজুত–সংক্রান্ত সমস্যার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
লোহিত সাগরে হুতিদের অবরোধের কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি নাজরান প্রদেশে হামলায় ১১ জন আহত হয়েছেন; বড় ধরনের সমন্বিত হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো প্যাট্রিয়ট ও টমাহকসহ বিভিন্ন অস্ত্রের নতুন কারখানা তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মুখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে আজ জেদ্দায় যৌথ চুক্তিতে সই করছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমান চুক্তির সম্ভাবনা ঘিরে আলোচনা এগোচ্ছে। তবে ট্রাম্পের হুমকি, দুই পক্ষের অবস্থানগত পার্থক্য ও ‘টেকসই’ নিয়ন্ত্রণ ভাবনা—সব মিলিয়ে চুক্তির স্থায়িত্ব ও বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সেবা ফি সংগ্রহের বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, যা চূড়ান্ত চুক্তির পথে রয়েছে। তবে এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মাঝে পদত্যাগের গুঞ্জন নাকচ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
অস্ত্রসংকট নিয়ে প্রেসিডেন্টকে পুরোপুরি অবহিত না রাখার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-হেগসেথের মধ্যে আলোচনা, পাশাপাশি ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বিরোধিতা ও প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বক্তব্য।
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে বলেই ধরা হবে।
ইরানের নেতৃত্ব বহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধাঁধায় ফেলেছে। তবে ট্রাম্পের মতো এতটা বিপাকে সম্ভবত আর কাউকে পড়তে হয়নি।
জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ চালনার বিষয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও হুমকির কারণে এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে তেহরান এখনো উদ্বিগ্ন।