বিপরীত লিঙ্গের প্রতি নিষিদ্ধ আকর্ষণ: আত্মশুদ্ধির পথ কী
কোনো যুগল যখন ইসলামের নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে বিবাহবহির্ভূত ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অন্তরে জন্ম নেয় তীব্র আত্মগ্লানি ও মানসিক অস্থিরতা।
কোনো যুগল যখন ইসলামের নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করে বিবাহবহির্ভূত ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়ে, তখন অন্তরে জন্ম নেয় তীব্র আত্মগ্লানি ও মানসিক অস্থিরতা।
মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষের বিভিন্ন শ্রেণির যে সূক্ষ্ম চরিত্রচিত্রণ তিনি তুলে ধরেছেন, তা মানবচৈতন্যকে নাড়া দেওয়ার মতো এক অতুলনীয় আধ্যাত্মিক দর্পণ।
চিকিৎসাবিজ্ঞান, মহাকাশ অভিযান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি দেখে অনেকে সদম্ভে ঘোষণা করছে, ‘মানুষ আজ প্রকৃতিকে জয় করেছে, এখানে স্রষ্টার আর কোনো ভূমিকা নেই!’
মানবদেহের বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যত সুস্থ ও সবলই হোক না কেন, তার হৃদয় যদি অনুভূতিহীন ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তবে সেই মানুষটির সমগ্র জীবনই পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।
মানবদেহে এমন একটি সূক্ষ্ম অথচ অতীব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ রয়েছে, যার সুস্থতার ওপর সমগ্র জীবনের আলো ও অন্ধকার নির্ভর করে। সে অঙ্গটি হলো ‘কলব’ বা অন্তর।
মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কোনো কথা, অন্যায় দৃষ্টি, কিংবা মনে মনে চর্চা করা সামান্য গিবত। মনে হয়, এসব তো কবিরা গুনাহ নয়, তাহলে ক্ষতি কী?
ইসলামে এমন কিছু বিশেষ ও বরকতময় মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে, যখন বান্দার ডাক সরাসরি আল্লাহর দরবারে পৌঁছে যায় এবং দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, আত্মশুদ্ধি ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শুক্রবার পল্টনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক সভায় তিনি এই কথা বলেন।
নিজের চেয়ে কম যাদের আছে, তাদের দিকে তাকিয়ে শুকরিয়া আদায় করা, যা আছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা, আর তুলনার অভ্যাস থেকে নিজেকে সচেতনভাবে দূরে রাখা।
ইব্রাহিম ইবনে আদহাম (রহ.) বসরার বাজার দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় একদল লোক করলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, কিন্তু আমাদের দোয়া কবুল হয় না কেন?’
আত্মসমালোচনা শুধু আত্মপর্যালোচনার একটি প্রক্রিয়াই নয়; বরং এটি মানুষের চরিত্র, নিয়ত এবং আখেরাতমুখী জীবন গঠনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোনো মন্দ বিষয় নয়; এর ব্যবহারই একে ভালো বা মন্দের রূপ দেয়। নিজের জীবনের ওপর চড়াও হতে না দিয়ে, এর লাগাম নিজের হাতে টেনে ধরুন।
এই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পঙ্কিলতার মধ্যেও যাঁরা নিজেদের চরিত্র ও নৈতিকতা রক্ষা করতে পারেন, তাঁদের জন্য রয়েছে পরকালের পরম সুসংবাদ।
আমরা কোরআনের অনেক আয়াতেই দেখতে পাই, জৈবিক ও আত্মিক, দুনিয়া ও আখেরাতের অগ্রাধিকার ও ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে।
হজ থেকে ফিরে আসার কয়েক মাস পরই সেই আবেগ ও পরিবর্তনের দীপ্তি ম্লান হয়ে যায়। হজ-পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন ধরে রাখতে কয়েকটি কাজ করা যেতে পারে।
ব্যাকুলতা অর্জনের জন্য প্রথম শর্ত আল্লাহকে চেনা, যাকে বলে ‘মারেফাত’। যখন মানুষের অন্তর্দৃষ্টি প্রসারিত হয়, তখন সে বিপদের মাঝেও আল্লাহর দান দেখতে পায়।
সাফল্যের সব জাগতিক সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠার পর মানুষের মনে একটিই প্রশ্ন জাগে—‘এরপর কী?’ শুধু বিত্ত-বৈভব বা সামাজিক প্রতিপত্তি মানুষকে প্রকৃত সুখ দিতে পারে না।
অষ্টম শতাব্দীর বসরায় জন্মগ্রহণকারী হযরত রাবেয়া বসরি দারিদ্র্য ও দাসত্ব সত্ত্বেও খোদাপ্রেমের ‘হুব্ব’-ভিত্তিক দর্শন প্রচার করেন। তাঁর জীবন সুফিবাদে প্রেমের নতুন মাত্রা যোগ করে। এই প্রতিবেদনে তাঁর জীবন ও শিক্ষার বিবরণ পাওয়া যাবে।
রমজান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে পুরনো অনৈতিক অভ্যাসে ফিরে যান, মসজিদ ফাঁকা হয়ে যায়। এটি ‘রমজানি’ মানুষের চিহ্ন, যাদের ইবাদত এক মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সত্যিকারের ‘রব্বানি’ হতে হলে সারা বছর ধর্মানুশীলন অব্যাহত রাখতে হবে।
অন্তর যদি ব্যাধিগ্রস্ত বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার প্রভাব পুরো দেহের ওপর পড়ে এবং আত্মিক শুদ্ধতা নষ্ট হয়, আমল ও আখলাক ধ্বংস হয়ে যায়।
রমজানের মাধ্যমে যে নিজের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করতে পেরেছে, যার ঈমান আরও দৃঢ় হয়েছে এবং বিশ্বাস ও সংকল্প হয়েছে শক্তিশালী—ঈদের আনন্দ তার জন্য।
নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করার অর্থ এই নয় যে সব ইচ্ছা বিসর্জন দিতে হবে, বরং অর্থ হলো লাগামহীন ইচ্ছাকে আল্লাহর হুকুমের অধীনে নিয়ে আসা।
আত্মপরিচর্যা মানে নিজেকে প্যাম্পার করা নয়, বরং নিজের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। প্রকৃত আত্মপরিচর্যা সবসময় সুন্দর বা দেখানোর মতো হয় না।
অনেকেই ভাবি, ‘এখন তো বয়স কম, কাল থেকে নামাজ শুরু করব’ অথবা ‘সামনের রমজানে নিজেকে বদলে ফেলব।’ বাস্তবতা হলো, সেই ‘আগামীকাল’ হয়তো আসবেই না।