
প্রবাসী আয়ে শীর্ষে এখন কৃষি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেল
একদল গ্রাহকের টানা আন্দোলন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের উত্তপ্ত আলোচনা এবং গ্রাহকের আতঙ্কসহ নানা ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের প্রবাসী আয়ে প্রভাব পড়েছে।

একদল গ্রাহকের টানা আন্দোলন, সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের উত্তপ্ত আলোচনা এবং গ্রাহকের আতঙ্কসহ নানা ঘটনায় ইসলামী ব্যাংকের প্রবাসী আয়ে প্রভাব পড়েছে।

সর্বশেষ মে মাসের প্রবাসী আয় গত বছরের মে মাসের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। গত বছরের মে মাসে ২৯৬ কোটি ৯৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার প্রবাসী আয় এসেছিল।

ঈদুল আজহার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। চলতি মে মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে প্রবাসী আয় কাঁচা বাড়ি পাকা করেছে, বাজারে দোকান বেড়েছে এবং নতুন ব্যবসা গড়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে ২ হাজার ৮০ জন বিদেশ গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্দ্বীপ দেশের রেমিট্যান্সের উল্লেখযোগ্য অংশ দেয়।

বিদায়ী এপ্রিলেও ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। ওই মাসে এসেছে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

প্রবাসী আয় সংগ্রহে অসাধারণ অবদানের জন্য পূবালী ব্যাংককে এনআরবি ‘গোল্ড অ্যাওয়ার্ড ফর ব্র্যান্ডিং পদক’ প্রদান করেছে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের হাতে পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্যাংকের এমডি-সিইও মোহাম্মদ আলী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উভয় প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বগণ।

এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসী আয় ১২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত শেষ তিন দিনে ২৪ কোটি ডলারের বেশি এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং রমজানের প্রভাবে প্রবাহ বেড়েছে।

মার্চ মাসে প্রবাসী আয় ৩৭৫ কোটি ডলার হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে, যা গত বছরের একই মাসের ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলারের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। ঈদ এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে এই আয় বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা রিজার্ভ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।

দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। সে সময় প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, ওমান, বাহরাইন ও কুয়েত থেকেই আসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয়

চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই দেশে ১৯২ কোটি মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৪৪% বেশি।

রেমিট্যান্সের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আয় কমে গেলে তখন হঠাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে আগেভাগে পরিকল্পনা থাকলে পরিবার আর্থিক ধাক্কা সামাল দিতে পারে।