রংপুর মেডিকেলে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশুর মৃত্যু
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত তিন শিশুর মৃত্যু হলো।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত আরও এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ দিনে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত তিন শিশুর মৃত্যু হলো।
এবার হাম পরিস্থিতি আলাদা। শিশুদের ক্ষেত্রেও যেমন বয়সের বাছবিচার মানছে না, তেমনি বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। সোমবার বেলা একটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন ২৭ জন রোগী রয়েছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭৭ শিশু রয়েছে। গত ১৭ মার্চ থেকে মোট ৩৭১ শিশু ভর্তি, ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত দুই শিশুকে আইসোলেশন কক্ষে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দেশের সাত জেলায় রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, চলতি মাসে ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন।
আসলাম বলেন, অটোভ্যান চালিয়ে যা আয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ছেলের হামের চিকিৎসায় প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। ধারদেনা করেই এ টাকা জোগাড় করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও আট শিশুর মৃত্যু হয়েছে; ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু ৭৭৯।
হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ শয্যার ফিল্ড ওয়ার্ড চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তৈরি এই ওয়ার্ডে চিকিৎসক ও ঔষধপত্র প্রস্তুত, কিন্তু অধিদপ্তরের আদেশের অভাবে এখনো রোগী রাখা হয়নি। হাসপাতালে শয্যাঘাটতির কারণে অনেক শিশু মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে।
টাকার অভাবে হামে আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়া পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদ।
হাম একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা শিশুদের আক্রমণ করে। ভাইরাস সংক্রমণের ১-২ সপ্তাহ পর লক্ষণ দেখা দেয় এবং সঠিক চিকিৎসা-পরিচর্যায় জটিলতা এড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ করে টিকা, ভিটামিন এ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিন।
হামে আক্রান্ত ছেলের চিকিৎসার জন্য অনুদানের চেক পেলেও ছেলের জন্য ওষুধ কিনতে পারছেন না মা শাহিদা খাতুন। টাকার অভাবে হামে আক্রান্ত ছেলেকে নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তিনি।
পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন নতুন রোগী ভর্তি, চিকিৎসাধীন ২৫ জন। হাসপাতালে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও একই ব্যবস্থা।