পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হাম রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আজ রোববার বেলা একটা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগী ২৫ জন। ছোঁয়াচে রোগ হামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের এক কোণে আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বছরের শুরু থেকে দু–একজন করে হাম রোগী আসছিল। জানুয়ারি থেকে আজ রোববার পর্যন্ত মোট ১১৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে রোগীর চাপ কিছুটা বেড়েছে। এই সপ্তাহে ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন। বর্তমানে ভর্তি রোগী ২৫ জন। তবে কেউ মারা যায়নি।
রোববার দুপুরে সরেজমিন হাসপাতাল পরিদর্শন করা গেলে দেখা গেছে, শিশু ওয়ার্ড রোগীতে ঠাসা। ওয়ার্ডের সব কক্ষ পূর্ণ হয়ে বারান্দায় শিশু রোগীদের রাখা হয়েছে। অধিকাংশ শিশু ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। শিশু ওয়ার্ডের বারান্দার এক কোণে কাচ দিয়ে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ তৈরি করা হয়েছে। এই কর্নারটিও রোগীতে ভর্তি। শিশুদের নিয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন।
জেলা সদরের দুবলিয়া গ্রামের রোমেছা খাতুন সাত মাসের ছেলেকে নিয়ে পাঁচদিন ধরে হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি জানান, হাম বের হওয়ার পরই ছেলের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসা শুরুর পর শ্বাসকষ্ট কমেছে।
হিমাইতপুর থেকে শিশুমেয়েকে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে সুমাইয়া আক্তার বলেন, “প্রথমে মেয়ের জ্বর হয়। তারপর হাম হয়। শ্বাসকষ্ট ছিলি, পেট ফুলে যাতিছিল। পরে হাসপাতালে আনছি। এহন কিছুডা ভালো আছে।”
শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক তানভীর ইসলাম জানান, হাম ছোঁয়াচে রোগ। তাই রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে অধিকাংশ রোগী ৯ মাসের কম বয়সী। নিয়মিত তদারকি ও চিকিৎসা চালানো হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ২০৬ জন রোগী ভর্তি। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত ২৫ জন। ফলে চিকিৎসক-নার্সদের কাজের চাপ বেড়েছে। তবে হামের ওষুধ পর্যাপ্ত। রোগী বাড়লে আরও ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ তৈরি করা হবে। তিনি বলেন, হাম সাধারণত শিশুদের বেশি হয়। তবে বড়দেরও হতে পারে। এবার আক্রান্তের সংখ্যা কিছু বেশি। হঠাৎ এত বেশি কেন, তদন্ত দরকার।
জেনারেল হাসপাতালের বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও হাম রোগী আসছে। সেখানেও ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে।
পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে হাম আক্রান্ত শিশু কম সংখ্যায় আসছে। তবু সেখানেও আলাদা ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ তৈরি করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিভিল সার্জন বলেন, “আমরা হামে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে সতর্ক আছি। হামের টিকা মূলত ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। তবে এবার আক্রান্তদের অধিকাংশই ৯ মাসের কম বয়সী শিশু। ফলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার আছে।”






