
আ.লীগ অধ্যুষিত ৩০ আসন,ভোট টানতে নানামুখী প্রচেষ্টা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন, অনেকে কারাগারেও আছেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে রয়েছেন, অনেকে কারাগারেও আছেন।

নির্বাচন কমিশনে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আছে ৬০টি। এর মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে।

আওয়ামী লীগের শাসনকালে ভোটাধিকারহীনতার কথা তুলে ধরে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সংঘাত-সহিংসতা এড়াতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে আওয়ামী লীগ। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের প্রথম বিপর্যয় হয়েছিল। গতকাল সোমবার রাতে নির্বাচনী প্রচার শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ফেনী-২ (সদর) আসনে তাঁর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট টানতে প্রকাশ্যে ও গোপনে নানামুখী কৌশল নিয়েছেন প্রার্থীরা।

মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গোপালগঞ্জ-১ আসন গঠিত। এই আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

এক বছর আগেও নায়িকা শিমলা আওয়ামী লীগের নৌকার মনোনয়ন নিতে সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, এবার তাঁকেই দেখা যাচ্ছে ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারণায়।

জনসভায় ডামুড্যা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত হন। তাঁরা প্রত্যেকে নুরুদ্দিন আহাম্মেদকে সমর্থন জানিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও খুন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হারুনুর রশীদ বলেছেন, ‘আগে তারা আওয়ামী লীগের লুঙ্গির নিচে ছিল। এখন বোরকার মধ্যে ঢুকেছে। জামায়াতের বোরকা পরা নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের আইডি কার্ডের ফটোকপি সংগ্রহ করছেন; ধর্মের দোহায় দিচ্ছেন।’

নির্বাচনের সরগরম প্রচারণার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসহ একটি ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ-বিএনপি ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ আসলে এমন কোনো কথা তিনি বলেননি।

আওয়ামী লীগ আমলের গত তিনটি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে জনমনে কৌতূহলের কোনো সুযোগ ছিল না। এমনকি ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল কী হতে পারে, তা আগেই ধারণা করা গেছে। সেদিক থেকে এবার এক ব্যতিক্রমী নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে ফলাফলের কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়।