গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফাঁসির রায় কার্যকর করতে দেশে ফিরবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রায় হয়েছে; এরপর সরকারের উচিত যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় রায় কার্যকর নিশ্চিত করা।
আজ শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ (এমএসএমই) দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। ন্যাশনাল এসএমই অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে একটা ইন্টারভিউয়ে (বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার) আমরা দেখেছি যে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। দেশ তো অলরেডি (ইতিমধ্যে) ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে। এখন আমরাও চাই দেশে ফিরবেন, ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘এটা তো শেখ হাসিনা ঠিক করবেন না, তিনি কীভাবে আসবেন। তিনি কাদেরকে নিয়ে আসবেন, সারেন্ডার (আত্মসমর্পণ) করবেন কি করবেন না—এটা ঠিক করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে। বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে কথা বলবে দিল্লির সঙ্গে, এখানে আর কোনো পক্ষ নাই। ফলে এটা সরকার ঠিক করবে—তাঁকে কখন আনবে, কীভাবে আনবে এবং কীভাবে বিচারের রায় কার্যকর করবে। সকল প্রস্তুতি নিয়েই তাঁকে আনতে হবে।’
মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, এটাও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য বড় একটা উদ্যোগ হবে। এ সরকারের দ্রুত রায়টি কার্যকর করা উচিত। এ ছাড়া অন্য কোনো পরিকল্পনা যদি কেউ ভাবে, তাহলে সেটা কারও জন্যই ভালো হবে না।’
এ সময় নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা অংশগ্রহণ করেছে, রাজনৈতিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা প্রস্তুত আছে। দেশের স্বাধীনতা–সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী আশিকিন আলম। এতে সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
‘আ.লীগের বিচার সঠিক রাস্তা’
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার যদি কোনো ধরনের পাঁয়তারা হয় আর সরকার যদি সেটাকে প্রশ্রয় দেয়, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকারই হবে।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে বিচারের মুখোমুখি করার কথা সরকারও ভাবছে। আমরা মনে করি, এটাই সঠিক রাস্তা। শেখ হাসিনার রায় অলরেডি হয়ে গিয়েছে। এখন এটা কার্যকর করতে হবে। শেখ হাসিনা যদি দেশে ফিরে, কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’
শেখ হাসিনা নিজের দলের নেতা–কর্মীদের ত্যাগ করে দিল্লিতে পালিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটা দিল্লির নিয়ন্ত্রিত একটা দল। ফলে শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাঁকে যতটুক পারমিট করা হয়, পারমিশন দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী তিনি কথা বলেন।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘ফলে শেখ হাসিনা আসবেন কি আসবেন না, কীভাবে আসবেন, বিচার হবে কি না—এটা মূলত দিল্লির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করবে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় জাসদ (ইনু) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সাজা (১০ বছরের কারাদণ্ড) নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হাসানুল হক ইনুর রায় বিচারব্যবস্থা এবং ট্রাইব্যুনালকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়াও আমরা পাইনি। সরকার তো একটা রাজনৈতিক দলও; সেই দলের জায়গা থেকেও কিন্তু আমরা কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি।’






