বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন
বন্যার ফলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে দ্রুত পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তার দাবি।
বন্যার ফলে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে দ্রুত পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তার দাবি।
বন্যার কারণে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করবে সরকার।
বন্যার পানি নেমেছে বেশ কিছুদিন আগে। কিন্তু চট্টগ্রামের বাঁশখালীর কাঁথারিয়া ইউনিয়নের বাঘমারা গ্রামের কৃষক আবুল খায়েরের (৬৫) ঘর থেকে বন্যার চিহ্ন এখনো মুছে যায়নি। টিনের দেয়ালে লেগে আছে পানির দাগ। নষ্ট হয়েছে ঘরের আসবাব, ধান ও চাল। পানি সরে যাওয়ার পর নতুন করে সংসার গোছানোর চেষ্টা করছেন তিনি।
আজ শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিওসি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশের পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক কারণ বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা ও জলাবদ্ধতার জন্য কিছুটা দায়ী হলেও মূল কারণ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেনে চলা বিভিন্ন ভ্রান্ত নীতি।
আইআরসি জানায়, চলতি বছরের মৌসুমি বৃষ্টিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে।
রাঙামাটিতে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো পানিবন্দী রয়েছে জেলার এক হাজারের বেশি পরিবার। এদিকে বান্দরবান জেলায় বন্যার পানি নেমে গেছে। তবে জেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলা এবং চট্টগ্রামের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
চট্টগ্রামে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা কম। তবে ফেনী, সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে; টানা বৃষ্টিতে সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতি বিদ্যমান। চার নদীর ছয়টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে থাকলেও বৃষ্টি কমে আসায় পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সাতটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
চার দিন ধরে একটানা অতিভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাঁচ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।