বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দৈনিক প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান গুনছে।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানি তেলের এলসি পরিশোধের হিসাবে বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকার বেশি।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, গত মার্চ থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আমদানি করা জ্বালানি তেলের এলসি পরিশোধের হিসাবে বিপিসির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ ১৭ হাজার ৩৯ কোটি টাকার বেশি।
প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমদানি হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে মার্চ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ঘিরে উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাত এমনিতেই অস্থির। তেল আমদানি থেকে শুরু করে সরবরাহব্যবস্থা—সব জায়গায় চাপ বেড়েছে। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তাদের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক রদবদল করেছে। এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশও জারি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে অপরিশোধিত তেলের আমদানি স্তব্ধ হওয়ায় ইস্টার্ন রিফাইনারি নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার তেলে নজর দিয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে এক লাখ টন তেল চলতি মাসে আসছে। এতে উৎপাদন সংকট এড়ানোর আশা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জাহাজের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিপিসি ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনে ৭ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ শুরু করেছে। এতে দেশের কৃষি, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার আশা জাগছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম।
মার্চে জ্বালানি সরবরাহ হলেও মজুত শেষের দিকে। এপ্রিলে সূচি মেনে আমদানি দরকার। ডিজেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ, সরকার বিকল্প উৎস খুঁজছে।
অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে জ্বালানি তেলের মজুত ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত আমদানি করতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
ঢাকা চেম্বার বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।
বাংলাদেশের জ্বালানিসংকটে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার জন্য সুপরিকল্পিত আমদানি, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, কড়াকড়ি মুদ্রানীতি এবং লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সংকটকে সংস্কারের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো উচিত।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির, দেশে আমদানি খরচ বেড়ে লোকসান হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। যুদ্ধবিরতিতে দাম কমলেও অনিশ্চয়তায় আবার বেড়েছে। সুফল পেতে সময় লাগবে বলছেন খাতের সংশ্লিষ্টরা।