
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান চুক্তি স্বাক্ষরের পরও যে কারণে শঙ্কা
সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

গত ২৫ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যত সামরিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, তার মধ্যে ইরান যুদ্ধ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ায় চালানো সামরিক হস্তক্ষেপের মতো ছিল না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান শুধু আরেকটি মার্কিন সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা থেকে টিকে যায়নি; যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যুদ্ধ কখনোই কেবল একটি সরকারের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই ছিল না।

জাহাজ চলাচলকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, প্রণালিটি দিয়ে যান চলাচল যুদ্ধ–পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে এখনো সময় লাগবে। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং মাইন পরিষ্কারের কাজ এখনো বাকি।

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পর দেশে চাপে নেতানিয়াহু

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চুক্তি নিয়ে গত ১৫ জুন আন্তর্জাতিক থিংকট্যাংক ক্রাইসিস গ্রুপ এই বিশ্লেষণটি প্রকাশ করেছে। প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় সেটি মুক্তকণ্ঠের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পরও সেখানে জাহাজ চলাচলে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী?

ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য শেষ পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায় পৌঁছেছে। আগামীকাল ১৯ জুন শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের কথা। এর মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় এলাকায় স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে এই সমঝোতা কতটুকু টেকসই হবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়ে গেছে।

এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের একটি সময়সীমা শুরু হবে।

ইরানের ইস্পাতকঠিন প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আগ্রাসন ও রক্তক্ষয়ী এ সংঘাতের অবসান ঘটাতে যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার সূচনা হয়েছিল অত্যন্ত বিধ্বংসী উপায়ে।

সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে (রণাঙ্গনে) লড়াই বন্ধের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আলোচনা চলাকালে ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার কথাও রয়েছে।

গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে খসড়া সমঝোতা স্মারকে সই হয়।