ইরানের সঙ্গে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ক্ষোভের ঢেউ উঠেছে। ৪০ দিন পার হয়ে গেলেও ইসরায়েল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দেশের রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের সাবেক সদস্য এবং আপার গ্যালিলি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ইনবার বেজিক চ্যানেল ১৩-কে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ থেকে কী পেলাম? দেশের ভেতরে সাধারণ মানুষের মৃত্যু, একের পর এক সেনার লাশ আর হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি হারানো। অথচ যুদ্ধের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি।’

ইনবার বেজিক আরও বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি, ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এখনো বিদ্যমান। তেহরানের শাসনব্যবস্থাও বহাল আছে; যেমনটা আছে হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাস।’

নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির সাবেক প্রধান রাম বেন-বারাক এই সংঘাতকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ‘ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘গাজা ও ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি এখন ট্রাম্পের ইশারায় চলছে। আমি আশা করি, লেবাননের ক্ষেত্রেও যেন এমনটা না ঘটে। বাস্তবতা হলো, নেতানিয়াহু আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের অধীনস্থ করে ফেলেছেন।’

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ইয়োসি শাইনও একই ধারণা প্রকাশ করেছেন। চ্যানেল ১২-কে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানেনি, বরং এই যুদ্ধে ইসরায়েল এখন একটি গৌণ পক্ষমাত্র।’

বাঘের পিঠে চড়ার রূপক তুলে ধরে ইয়োসি বলেন, ‘ইসরায়েল আসলে একটি বাঘের (যুক্তরাষ্ট্র) পিঠে সওয়ার হয়েছে। এটা এখন পরিষ্কার যে বাঘের স্বার্থ আর সওয়ারির স্বার্থ এক নয়। দুর্ভাগ্যবশত, ভূরাজনৈতিক অবস্থান থেকে আমরা আগের চেয়ে মোটেও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারিনি।’