মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ আরব অঞ্চলের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থার নতুন একটি মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই সংঘাতের ফলে আরব অঞ্চলের সম্মিলিত জিডিপি ৩ দশমিক ৭ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে ১২০ থেকে ১৯৪ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি থেকে ১৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে বেকারত্ব সর্বোচ্চ ৪ শতাংশীয় পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফলে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। একই সঙ্গে নতুন করে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারেন। বাস্তবতা হলো, এই অঞ্চলে গত বছর ৩৬ লাখ কর্মসংস্থানও হয়নি।
ইউএনডিপির আরব অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যুরো পরিচালক আবদাল্লাহ আল দারদারি বলেন, চলমান সংকট এ অঞ্চলের মোড় ঘুরিয়ে দেবে। তাঁর মতে, তেলনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, উৎপাদন খাত সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।
‘মিলিটারি এসকেলেশন ইন দ্য মিডল ইস্ট’ (মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি) শীর্ষক এই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে বাণিজ্য ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। উৎপাদন ও বিনিয়োগে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে। বিশেষ করে জিসিসি (গালফ কো–অপারেশন কাউন্সিল—উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট; সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, ওমান ও বাহরাইন নিয়ে এটি গঠিত) ও লেভান্ত (পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল—সিরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ইরাক ও ফিলিস্তিন) অঞ্চলের জিডিপি ৫ দশমিক ২ থেকে ৮ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
ইউএনডিপি বলছে, দারিদ্র্য সবচেয়ে বেশি বাড়বে লেভান্ত ও স্বল্পোন্নত আরব দেশগুলোতে। শুধু লেভান্তেই নতুন করে ২৮ থেকে ৩৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। পুরো এ অঞ্চলে দারিদ্র্য যত বাড়বে, এটি তার ৭৫ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া মানব উন্নয়ন সূচক শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। ফলে এ অঞ্চলের মানবোন্নয়নের অগ্রযাত্রা ছয় মাস থেকে এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউএনডিপি।






