বৈরী আবহাওয়ায় এলএনজি খালাসে বিঘ্ন, আবারও বাড়ছে গ্যাসের সংকট
সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে দেশে আবারও গ্যাসের সরবরাহ কমেছে এবং সংকট বাড়ছে।
সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে দেশে আবারও গ্যাসের সরবরাহ কমেছে এবং সংকট বাড়ছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার নগরের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে আগের কয়েক দিনের তুলনায় ভিড় কমেছে। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি বয়লার চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আংশিক শুরু হয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২২ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার দরে এক কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র স্বল্পচাপ দেখা দিয়েছে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এলএনজি কেনাসহ কয়েকটি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
কাতারএনার্জি এলএনজি উৎপাদন পুনরায় চালু করতে কাজ শুরু করেছে। রাস লাফানের কিউআইএলএনজি নর্থ ১ প্রকল্পের দুটি ট্রেন চালু হয়েছে। তবে পূর্ণ উৎপাদনের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া জরুরি।
সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।
বৈশ্বিক সংকটে কাতার-ওমান থেকে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, খোলাবাজার থেকে দ্বিগুণ দামে কিনে গ্যাস ধরে রাখা হচ্ছে। তবু গ্যাস ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বাড়ছে। ভর্তুকি ও ডলারের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা ক্রয় কমিটি অনুমোদন করেছে। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ৭৫.০৬ ডলার, মোট খরচ ৬৮৯ কোটি টাকার বেশি। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল।
টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার থেকে এলএনজি আনতে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম পড়ছে ১৯ দশমিক ৭৭ মার্কিন ডলার।
কাতার থেকে আমদানি হয় ৭০ শতাংশ এলএনজি, দেশটির উৎপাদন বন্ধ থাকবে লম্বা সময়। বিকল্প উৎসের সন্ধান। দাম চড়া।