আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আজ শুক্রবার জুম প্ল্যাটফর্মে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে এই এলএনজি কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারিত হয়েছে ২১ দশমিক ৫৫ মার্কিন ডলার। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর আগামী ১১ থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে এই এলএনজি সরবরাহ করবে।
হিসাব অনুযায়ী, এক কার্গো সমান ৩৩ লাখ ৬০ হাজার মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজি। সেই হিসেবে এক কার্গো এলএনজির মোট দাম দাঁড়ায় প্রায় ৭ কোটি ২৪ লাখ ৮ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
এদিকে আজকের বৈঠকে জিটুজি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকেও এলএনজি কেনার একটি প্রস্তাব ছিল। তবে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ বৈঠক থেকে প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। উল্লেখ্য, গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে আগামী ১৩ বছর ধরে এলএনজি আমদানির এক প্রস্তাবে গত ২৮ জুলাই নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, জিটুজি ভিত্তিতে ১৩ বছরে গানভর থেকে মোট ৭৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার, যার মধ্যে প্রতিবছর আমদানি করা হবে ৬ কার্গো এলএনজি।
অন্যদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে মোট ৮ কার্গো এলএনজি কেনার চারটি আলাদা প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা এই এলএনজিগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল থেকে ২ কার্গো, অস্ট্রেলিয়ার গ্লোবাল ফুয়েল সাপ্লাইজ পিটিই থেকে ২ কার্গো, মালয়েশিয়ার প্লেনটিটিউড এনার্জি এসডিএন বিএইচডি থেকে ২ কার্গো এবং ওমানভিত্তিক ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ২ কার্গো এলএনজি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।