যুদ্ধে মিত্রদের পাশে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মিত্রদেশগুলো সহায়তা না দিলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মিত্রদেশগুলো সহায়তা না দিলে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
হরমুজ প্রণালীতে সোমবার মার্কিন সামরিক অবরোধ শুরু হয়েছে। ১৫টির বেশি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি জাহাজের আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন। ইরানও কঠোর জবাবি হুঁশিয়ারি জানিয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার মুখে ইরানি সামরিক বাহিনী তাদের রণকৌশল পরিবর্তন করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টদের গোপনীয়তা বজায় রেখে চলাচল আর ট্রাম্পের ক্যাটারিং ট্রাকের ভেতরে লুকিয়ে এক উড়োজাহাজ থেকে আরেক উড়োজাহাজে যাওয়ার বিষয়টি লোকে এক চোখে দেখছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘ভালো’ ও ‘গভীর’ আলোচনা চলছে; ব্যর্থ হলে ‘খুব কঠোর সামরিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। তবে ইরান বলছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান–প্রদান হলেও বর্তমানে কোনো আলোচনা হচ্ছে না।
গত ২৫ বছরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র যত সামরিক ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে, তার মধ্যে ইরান যুদ্ধ সম্ভবত সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ আফগানিস্তান, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া কিংবা সিরিয়ায় চালানো সামরিক হস্তক্ষেপের মতো ছিল না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান শুধু আরেকটি মার্কিন সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা থেকে টিকে যায়নি; যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এই যুদ্ধ কখনোই কেবল একটি সরকারের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই ছিল না।
টানা সপ্তম দিন ইরানের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা। জবাবে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন স্থাপনায় ইরানের পাল্টা হামলা।
সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও নতুন দর-কষাকষির সম্ভাবনা রয়েছে। লেখকের অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, ইরানিদের কাছে চুক্তি মানেই নতুন আলোচনার শুরু। ট্রাম্পের চরম অবস্থান এবং ইরানের কৌশল টেকসই শান্তি বাধা দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি অগ্রহণযোগ্য। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যুদ্ধবিরতি ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে। ইরান দাবি করেছে ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবরের মধ্যে দুই নেতা থেকে এমন বার্তা দেওয়া হলো।
গত বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎকারের মাঝপথে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে জানানো হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ অবিলম্বে দেখতে চাচ্ছেন।