সোমবার হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের জাহাজ প্রথম এই অবরোধে আক্রমণ করতে এলে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই অভিযান সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টির বেশি যুদ্ধজাহাজ সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির সহযোগী সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোর পাশাপাশি পারস্য উপসাগর, ওমান সাগরের উপকূলীয় এলাকা এবং আরব সাগরের কিছু অংশে নৌ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মাদক চোরাচালানকারীদের ওপর যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, সেভাবে ইরানের জাহাজগুলোর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সমুদ্রে নৌকায় থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে আমরা যে পদ্ধতি ব্যবহার করি, সেই পদ্ধতিতে তাদের (ইরানি জাহাজ) নিশানা করা হবে।’ এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিল, তাদের বন্দরগুলো হুমকির মুখে পড়লে পারস্য উপসাগর বা ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফারসে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী বলেছে, হরমুজ প্রণালির দিকে সামরিক জাহাজ অগ্রসর হলে সেটিকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেবে তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়, যা পরবর্তী সময়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ৪০ দিন যুদ্ধের পর শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে পাকিস্তানের ইসালামাবাদে শান্তি আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। কোনো চুক্তি ছাড়াই গত শনিবার ওই আলোচনা শেষ হয়। এরপর হরমুজ প্রণালিসহ ইরানের নৌ বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।






