অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে ৮ সংস্কার জরুরি: এডিবি
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থনীতি নানামুখী চাপে আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, ঋণঝুঁকি ও প্রশাসনিক অদক্ষতা একসঙ্গে চাপ তৈরি করছে
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অর্থনীতি নানামুখী চাপে আছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিম্ন রাজস্ব আহরণ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, ঋণঝুঁকি ও প্রশাসনিক অদক্ষতা একসঙ্গে চাপ তৈরি করছে
পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ভোক্তা প্রতিনিধিরা বলেছেন, এটি মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াবে।
কল্যাণপুরের সাজেদুল ইসলামের সপ্তাহের বাজারে খরচ বেড়েছে ২১০ টাকা, মাসিক ৮৫০ টাকা। টিসিবির তথ্যে গত মাসে আটা, তেল, ডাল, পেঁয়াজ, মুরগি, ডিমের দাম বেড়েছে। বিবিএস-এর হিসাবে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯.০৪ শতাংশ।
পিডিবির নতুন প্রস্তাবে বিদ্যুতের স্ল্যাব কাঠামো পরিবর্তন করে দাম বাড়ানো হচ্ছে, যা সীমিত আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে। এতে রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্দেশ্য স্পষ্ট হলেও খাতের মূল সমস্যা সমাধান ছাড়া এটি অন্যায়। সরকারের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ছাড়া মূল্যস্ফীতি তীব্র হবে।
সিলেটে জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি, মূল্যস্ফীতি, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও সরকারি কলকারখানা হস্তান্তর নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই রাষ্ট্রের চুক্তি সহজে পরিবর্তন করা যায় না। জ্বালানি দামবৃদ্ধির প্রভাব সাময়িক এবং সরকার লোকসানি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে তুলে দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশের গড় মূল্যস্ফীতি চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যেতে পারে।
পুরোনো সংকট কাটেনি, সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, খেলাপি ঋণ ও জ্বালানিঝুঁকির মধ্যে নতুন সরকার কোন অগ্রাধিকার আগে দেবে, সেই প্রশ্নই এখন বড়।
হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এডিবি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। পরের বছরে এটি ৪.৭ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
রবার্ট কিয়োসাকির ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বই বাংলাদেশের তরুণদের শেখায় টাকাকে নিজের জন্য খাটানোর কৌশল। বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সাক্ষরতার ঘাটতির প্রেক্ষাপটে এ শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বইটি সম্পদ-দায়ের পার্থক্য, বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তার মনোভাব নিয়ে আলোকপাত করে।
সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তেলের দাম ৪০% এবং এলএনজি ৫০% বাড়লে জিডিপি ১.২% কমতে পারে, রপ্তানি ২% এবং আমদানি ১.৫% হ্রাস পাবে। মূল্যস্ফীতি ৪% বাড়বে এবং প্রকৃত মজুরি ১% কমবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সানেম নবায়নযোগ্য শক্তি ও মজুত তৈরির সুপারিশ করেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল(আইএমএফ) বলছে, তেলের দাম প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধির বিপরীতে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়বে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ।