রাজধানীর কল্যাণপুরের বাসিন্দা সাজেদুল ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই বিভাগে কর্মরত। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সপ্তাহের কেনাকাটা করতে কল্যাণপুর নতুন বাজারে যান।
প্রথমে সবজির দোকানে পৌঁছে এক কেজি করে বরবটি, কাঁকরোল ও বেগুন এবং আধা কেজি ধুন্দুল কিনেন সাজেদুল। এই চার ধরনের সবজিতে তাঁর খরচ হয় ৩৪০ টাকা। দুই মাস আগে প্রায় একই পরিমাণ সবজি তিনি কিনেছিলেন ২৬০ টাকায়। অর্থাৎ খরচ বেড়েছে ৮০ টাকা।
এগুলো সাজেদুল ইসলামের পরিবারের এক সপ্তাহের বাজার, যেখানে ব্যয় বেড়েছে ২১০ টাকা। সে হিসাবে মাসিক ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৮৫০ টাকা।
তারপর মাছ কিনতে যান সাজেদুল। বিক্রেতা মাঝারি (দুই কেজি) আকারের পাঙাশের কেজি ৩২০ টাকা হাঁকেন। দরাদরি করে ৩০০ টাকা কেজিতে কিনতে সক্ষম হন তিনি। মাসখানেক আগে এই আকারের মাছ ছিল ২৮০ টাকা কেজি। ফলে দুই কেজিতে ৪০ টাকা বেশি লাগে।
ব্রয়লার মুরগির দোকানে পৌঁছে আবার হতাশ হন সাজেদুল। কোনো দোকানেই ২০০ টাকার নিচে ব্রয়লার পাওয়া যায় না। দেড় মাস আগে এর কেজি ছিল ১৫০ টাকা। তাই দেড় কেজি ব্রয়লার কিনতে ৫০ টাকা বাড়তি খরচ হয়। পাশের মুদিদোকান থেকে ৫ কেজি চাল ও এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম কেনেন তিনি। চালের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডিমের দাম এক মাসে ডজনে ৪০ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম কিনতে হয় ১৫০ টাকায়।
এগুলো সাজেদুল ইসলামের পরিবারের এক সপ্তাহের বাজার, যেখানে ব্যয় বেড়েছে ২১০ টাকা। সে হিসাবে মাসিক ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৮৫০ টাকা।
কেনাকাটা শেষ করে ফেরার পথে সাজেদুল মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমার বেতন সীমিত। এর মধ্যে টানাটানি করে সংসার খরচ চালাই। কিন্তু গত দেড়-দুই মাসে সিলিন্ডারের এলপিজি গ্যাসসহ (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে সবজি, মাছ, মাংসের দাম বেশ খানিকটা বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে এখন আমি হিমশিম খাচ্ছি।’
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসে আটা, ময়দা, সয়াবিন ও পাম তেল, মসুর ডাল, পেঁয়াজ, মুরগি, ডিম, বিভিন্ন মাছ, মাংস ও মসলার দাম বেড়েছে। কিছু পণ্যের দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বেশি। যেমন খোলা সয়াবিন তেলের দাম গত বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। সেই সঙ্গে সাজেদুলের মতো সীমিত বা নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্টও বেড়েছে।
গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৭০-৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। আর রোজার মাসে সোনালির দাম ছিল ৩২০-৩৩০ টাকা।
বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি, পাঙাশ, তেলাপিয়া মাছ ও সবজির দাম সাধারণ মানুষকে ভোগাচ্ছে। ব্রয়লার প্রায় দেড় মাস ধরে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। গতকাল সোনালি মুরগি ৩৭০-৩৮০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহে ২০ টাকা বেড়েছে, রোজায় ছিল ৩২০-৩৩০ টাকা।
বর্তমানে ৫০-৬০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যায় না। গতকাল ঢ্যাঁড়স ও পটোল ৫০-৬০ টাকা কেজি; টমেটো, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দুল ৭০-৯০ টাকা; বেগুন ৮০-১২০ টাকা; বরবটি ও পেঁপে ৮০-১০০ টাকা ও কাঁকরোল ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
খুচরা বাজারে গতকাল ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। পাড়া-মহল্লায় ৫ টাকা বেশি। গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। সে হিসাবে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।
৫০-৬০ টাকার নিচে বর্তমানে কোনো সবজি কেনা যায় না। গতকাল প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স ও পটোল ৫০-৬০ টাকা; টমেটো, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও ধুন্দুল ৭০-৯০ টাকা; বেগুন ৮০-১২০ টাকা; বরবটি ও পেঁপে ৮০-১০০ টাকা ও কাঁকরোল ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।






