যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, চুক্তি হয় দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে। ব্যক্তিদের মধ্যে চুক্তি হলে তা সহজে রদ করা যায়, কিন্তু দুই রাষ্ট্রের চুক্তি ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, চুক্তিতে বিভিন্ন ধারা থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের পক্ষে যায়, অন্য কিছু ধারা অন্য পক্ষের পক্ষে। দুই পক্ষের মধ্যে ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরি করাই চুক্তির লক্ষ্য।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তবে চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এমন কিছু যদি আমাদের সামনে আসে, যা দেশের স্বার্থের অনুকূল নয়, তাহলে সেই ধারা সংশোধন করার সুযোগ এই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।’
মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের দাম অন্য দেশের তুলনায় খুব সামান্য বেড়েছে। এর ফলে পণ্যমূল্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা ‘ওয়ানটাইম স্পাইক, ওয়ানটাইম ইনক্রিজ’। এতে মূল্যস্ফীতি হবে না।
তাঁর মতে, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ এমন যে পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কেউ অযথা দাম বাড়ালে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে অনুমান করে আগে থেকে দাম বাড়ানো ঠিক নয়।
দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার অভাবে পণ্য পরিবহন খরচ বাড়ছে বলে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এটি কমাতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য একটি ডেনিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বন্দরের কাজ দ্রুতগতিতে হলে ইউনিটপ্রতি খরচ কমবে। সরকার এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সরকারি কলকারখানা বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা নয়। যেখানেই সরকার ব্যবসায় নামে, সেখানে অদক্ষতার কারণে লোকসান হয় এবং জনগণের টাকা নষ্ট হয়। সব লোকসানি প্রতিষ্ঠান বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব মিল-ফ্যাক্টরি চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব আহরণের ব্যবস্থা করা হবে।
বাইশটিলায় ন্যাচারাল পার্ক নির্মাণ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদের এখানে ৪৩ একর জমি রয়েছে। এটিকে পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে কেবল কার, রোপব্রিজসহ বিভিন্ন আকর্ষণ থাকবে। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযোগী সরঞ্জাম থাকবে। জেলা পরিষদ এর জন্য মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং সরকার অর্থায়ন করবে।
পার্ক পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকালে সিলেটের আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এআইবিএ) পরিদর্শন করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ সময় তিনি এআইবিএ মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শুরুতে এআইবিএ সিলেটের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মোহাম্মদ কায়সার হোসেন শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।






