
হরমুজ প্রণালি খুলতে বড় কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে ট্রাম্পকে
হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

হরমুজ প্রণালি সচল করতে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

পবিত্র ঈদুল আজহা পর্যন্ত দোকান-বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে সরকার। আজ মঙ্গলবার থেকে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে আলোকসজ্জা বা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার নিষিদ্ধ।

প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর অচলাবস্থা সরাসরি জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনে ব্যাঘাত বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ড্রোন প্রযুক্তি এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু সামরিক সংঘাত নয়, বরং অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই। হরমুজ সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। ফলে এই সংকটের দ্রুত সমাধান এখন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির, দেশে আমদানি খরচ বেড়ে লোকসান হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। যুদ্ধবিরতিতে দাম কমলেও অনিশ্চয়তায় আবার বেড়েছে। সুফল পেতে সময় লাগবে বলছেন খাতের সংশ্লিষ্টরা।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কৌশলগত সুবিধা ধরে রেখেছে। বিশ্ব তেল বাজারে উদ্বেগ কমলেও অনিশ্চয়তা অব্যাহত। ইরান এখন জাহাজ থেকে মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে।

ইরানের হামলায় সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রপ্তানির একমাত্র পথ। এতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে। আইআরজিসি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি, সার ও খাদ্য সংকট ঘটাচ্ছে। বাংলাদেশে সারকারখানা বন্ধ, পাকিস্তানে স্কুল বন্ধ। সমঝোতার মাধ্যমে জলপথ সচল না রাখলে সাড়ে চার কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখে পড়তে পারে।

ম্যাককোয়ারি গ্রুপের গবেষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে তেলের দাম সাময়িকভাবে ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে, সম্ভাবনা ২০ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও হরমুজ বন্ধের কারণে ডব্লিউটিআই ক্রুড ১০০ ডলার পেরিয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সরবরাহ সংকট গভীর হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধাক্কা খাবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে কঠোর হামলার হুমকির পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ডব্লিউটিআই তেলও ১১০ ডলারের ওপরে ওঠে। ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত।

হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভোক্তা ও অর্থনীতির চাপ কমাতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে ফিলিপাইনস, শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তারিত ব্যবস্থা।

১৯৫৬ সালে সুয়েজ খালের জাতীয়করণ ছিল তেমনই এক সন্ধিক্ষণ, যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছিল। এই সংকট ব্রিটেনের আর্থিক দুর্বলতাকে নগ্ন করে দিয়েছিল। মার্কিন চাপের মুখে পাউন্ড স্টার্লিংয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল। বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে তার অবস্থান দ্রুত ক্ষয়ে গিয়েছিল। আর শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদী হাত গুটিয়ে আনা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।